
নয়াদিল্লি, মার্চ ২৫: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট (ডিপিডিপি অ্যাক্ট) এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নজর দিয়েছে। এই বিষয়টি বিশেষভাবে শিশুদের ডেটা স্থানান্তরের ট্র্যাকিং এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার অভাবের সাথে সম্পর্কিত, যা প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে।
কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক আইনগোর নেতৃত্বাধীন প্যানেল থিংক ট্যাঙ্ক এশিয়ার রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযোগের কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিশন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে নোটিশ পাঠিয়েছে। এছাড়াও, গৃহ মন্ত্রণালয়কেও নোটিশের কপি পাঠানো হয়েছে।
কমিশন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে প্রশ্ন করেছে যে, শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যবহারের জন্য সিম সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়া কী। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে শিশুদের নামে সিম কার্ড নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালে পাস হওয়া ডিপিডিপি অ্যাক্ট, যা ২০২৫ সালের শেষে নিয়ম প্রবর্তন করে কার্যকর হয়, বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ডেটা সুরক্ষা আইনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শিশু, মহিলা এবং বয়স্কদের মতো সংবেদনশীল শ্রেণীকে সাইবার হুমকির থেকে সুরক্ষা প্রদান করা।
যেখানে কিছু বিধান যেমন যাচাইকৃত অভিভাবকীয় সম্মতির জন্য ১৮ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে, সেখানে ডেটা ট্র্যাকিং, সার্ভার সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা আবশ্যক।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মেটা প্ল্যাটফর্মস, খান একাডেমি, হোয়াটসঅ্যাপ, গ্রোক, জেমিনি, পারপ্লেক্সিটি এআই এবং মাইক্রোসফট ম্যাথ সলভারসহ প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলো এখনও এই বিধানগুলোর পূর্ণ পালন করেনি।
কমিশন এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এটি শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে অনুসরণ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুতর বিষয় হলো, এনএইচআরসি একটি আইনগত এবং স্বাধীন সংস্থা, যা ভারতে মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে। এর সদস্যদের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের সমান মর্যাদা রয়েছে।
কমিশন ভবিষ্যতে বয়স্কদের মতো অন্যান্য সংবেদনশীল শ্রেণীর অধিকার রক্ষার জন্যও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
–
পিআইএম/পিএম













Leave a Reply