
নতুন দিল্লি, এপ্রিল ১২: ভারত ও উজবেকিস্তানের সেনাবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া ‘ডাস্টলিক’ শুরু করেছে। এই মহড়ায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়া, ছদ্মবেশী অভিযান, অনুসন্ধান এবং সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংসের সামরিক অভিযান পরিচালিত হবে। এতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য বিমান বাহিনীসহ ভারী গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বছর মহড়াটি উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই যৌথ সামরিক মহড়া ২০২৬, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত উজবেকিস্তানের নামাঙ্গান অঞ্চলের ফিল্ড ট্রেনিং এরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। এটি এই সিরিজের সপ্তম সংস্করণ, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত সহযোগিতাকে নির্দেশ করে।
এই যৌথ সামরিক মহড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং উজবেকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন। দুই দেশের সেনাবাহিনী একত্রে বিশেষ অভিযানের প্রশিক্ষণ নেবে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই সময় সেনাদের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো যৌথ পরিকল্পনা এবং কার্যক্রমের ক্ষমতা উন্নয়ন করা। এতে সেনাদের অনুসন্ধান অভিযান, ঘেরাও, ছদ্মবেশী অভিযান এবং বন্দীদের নিরাপদে উদ্ধার করার মতো জটিল কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ড্রোন এবং নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহারও শেখানো হবে, যাতে যুদ্ধের সময় সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
ডাস্টলিক ২০২৬ এর সময় দুই দেশের সেনাবাহিনী তাদের অভিজ্ঞতা এবং কৌশল বিনিময় করবে। এর ফলে তাদের যুদ্ধকালীন দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ও শক্তিশালী হবে। এই মহড়া ভারত ও উজবেকিস্তানের সেনাদের মধ্যে বিশ্বাস এবং সহযোগিতার অনুভূতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
গত বছর ভারত (পুণে) এ ডাস্টলিক মহড়ার ষষ্ঠ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই মহড়ায় আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে ড্রোনের মোতায়েন করা হয়েছিল। মানবহীন বিমান মোকাবেলার উপায়ও সেই মহড়ার অংশ ছিল। বিমান বাহিনী অশান্ত অঞ্চলে সামরিক বাহিনীকে সক্রিয় রাখার জন্য লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়া, হেলিকপ্টারও এই যৌথ মহড়ার অংশ ছিল, যা গোয়েন্দা ও নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।
বিশেষ হেলিবোর্ন অপারেশন (এসএইচবিও) এবং সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে ছোট সামরিক দলের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্যও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ভারত ও উজবেকিস্তান প্রতি বছর পালাক্রমে যৌথ মহড়া ‘ডাস্টলিক’ আয়োজন করে। এই বছরের মহড়া দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে আন্তঃসঞ্চালন এবং সৌহার্দ্য উন্নয়নে সহায়তা করবে। যৌথ মহড়া দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে বৃদ্ধি করবে এবং এতে দুই বন্ধু দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।













Leave a Reply