Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

‘পিএম সূর্য গৃহ পরিকল্পনা’

‘পিএম সূর্য গৃহ পরিকল্পনা’

দামোহ, মার্চ 27: মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম সূর্য গৃহ পরিকল্পনা’ এখন শক্তি বিপ্লবের রূপ নিচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে, এই পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির পাশাপাশি আয়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

দামোহ জেলার তেন্ডুখেড়া শহরে এই পরিকল্পনার প্রভাব স্পষ্ট। এখানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষ তাদের বাড়ির ছাদে ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। এই সোলার সিস্টেম তাদের বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক করে দিয়েছে এবং অনেক পরিবার প্রায় বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।

গরমের মৌসুমে যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বড় বিল দিতে হতো, সেখানে সোলার প্যানেলের ব্যবহারে এখন তারা বড় স্বস্তি পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ খরচে বিশাল হ্রাস ঘটেছে, যা সাধারণ পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করছে।

এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সাবসিডি দেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়। এছাড়া শূন্য শতাংশ সুদে ব্যাংক ফাইন্যান্সের সুবিধাও প্রদান করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক প্রয়োজনীয় ব্যক্তি সহজেই এই পরিকল্পনার সুবিধা নিতে পারেন।

একজন উপকারভোগী স্বপনিল জৈন জানান, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে ৩ কিলোওয়াট সোলার প্যানেলে ৭৮ হাজার টাকার সাবসিডি পাওয়া যাচ্ছে। এরপর তিনি এই পরিকল্পনার সুবিধা নিতে বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করেন। গরমের সময় যেখানে বিল ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাত, এখন তা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

স্বপনিল জৈন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ভারতের শক্তিশালীকরণের জন্য এই ধরনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

অন্য একজন উপকারভোগী সন্তোষ যাদব জানান, তিনি মোবাইল ফোনে দেখেছিলেন যে অনেকেই ‘পিএম সূর্য গৃহ পরিকল্পনা’ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। এরপর তিনিও সোলার প্যানেল স্থাপন করেন। যা আগে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিল আসতো, এখন তা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

বাড়ির ছাদে স্থাপিত সোলার প্যানেল প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এই বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ মিটার স্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়। এর বদলে উপভোক্তারা আর্থিক সুবিধা পান।

সন্তোষ যাদব জানান, তাদের বাড়ির সোলার প্যানেল প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৮ মিনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎ স্মার্ট মিটার দ্বারা সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর বছরে বিদ্যুৎ বিভাগে জমা হওয়া বিদ্যুতের অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তিনি বলেন, সোলার প্যানেল পরিকল্পনায় একটি সুবিধা হলো প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ মোবাইল অ্যাপে দেখা যায়, যেখানে অর্থের পরিমাণও প্রদর্শিত হয়।

মোটকথা, ‘পিএম সূর্য গৃহ পরিকল্পনা’ দামোহে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। এটি শুধু মানুষকে সস্তা এবং পরিষ্কার শক্তি দিচ্ছে না, বরং তাদের আত্মনির্ভর করে নতুন আয়ের পথও খুলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *