
নতুন দিল্লি, এপ্রিল ১০: বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশন (ইউজিসি) এর সচিব প্রফেসর মণীশ আর. জোশীকে কার্যমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা প্রশাসনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রফেসর জোশী ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কার্যমুক্ত হবেন। তার স্থানে এখন অল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল এডুকেশন কাউন্সিল (এআইসিটিই) এর সদস্য সচিব প্রফেসর শ্যামা রথকে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার, ইউজিসির সক্ষম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে, এটি এমন সময়ে হয়েছে যখন দেশে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার উপর, বিশেষ করে ইউজিসির নীতিমালা ও নিয়মাবলী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রফেসর মণীশ জোশীর সময়কালে ইউজিসি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, সম্প্রতি প্রকাশিত ইউজিসির নতুন নিয়মাবলী দেশব্যাপী বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
জানুয়ারি ২০২৬ সালে ইউজিসি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করে। এই নিয়মের আওতায় সকল প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুইটি কমিটি’ গঠন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই নিয়ম নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়েছে। কিছু আবেদনকারীর মতে, নিয়মগুলোর সংজ্ঞা অস্পষ্ট এবং এগুলো সব শ্রেণির জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এমনকি ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, এই নিয়মগুলো উল্টো বৈষম্যের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এই বিতর্কটি আইনগত আকার ধারণ করেছে এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। মামলার শুনানির সময়, সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়মগুলোর উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতে প্রাথমিক শুনানির সময় বলা হয়েছে যে, নিয়মগুলোর ভাষা অস্পষ্ট এবং এর অপব্যবহারের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। এর ফলে, পুরনো ২০১২ সালের নিয়মগুলো কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, এই ধরনের নিয়ম সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং এর সাংবিধানিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এছাড়াও, এই মামলা ২০১৯ সালের আবেদনগুলির সাথে সম্পর্কিত, যেখানে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগিত বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়মের দাবি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং এর পরবর্তী শুনানির ভিত্তিতে এই নিয়মগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। এই সময়ে, দেশব্যাপী ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এমন একটি সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং সময়ে প্রফেসর শ্যামা রথের ইউজিসির সচিব হিসেবে নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সচিবের সামনে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি এই বিতর্কিত নীতিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, সকল পক্ষকে একত্রিত করা এবং উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।














Leave a Reply