
নয়াদিল্লি, ফেব্রুয়ারি ১৩: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার আসামের সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি পূর্বোত্তর ভারতের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সকাল ১০:৩০ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ডিব্রুগড়ের মোরান বাইপাসে নির্মিত জরুরি অবতরণ কেন্দ্র (ইএলএফ) পরিদর্শন করবেন। এটি পূর্বোত্তর ভারতের প্রথম জরুরি অবতরণ কেন্দ্র। এখানে তিনি ফাইটার জেট, পরিবহন বিমান এবং হেলিকপ্টারের বিমান প্রদর্শনী দেখবেন। ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে সমন্বয়ে তৈরি এই ইএলএফ জরুরি অবস্থায় সামরিক এবং বেসামরিক বিমানের অবতরণ ও উড্ডয়নে সক্ষম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কৌশলগত প্রয়োজনের সময় এটি উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই অবকাঠামো ৪০ টন পর্যন্ত ফাইটার বিমান এবং ৭৪ টন সর্বাধিক উড্ডয়ন ওজনের পরিবহন বিমান পরিচালনা করতে পারে।
দুপুর ১ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত কুমার বর্মা সেতুর পরিদর্শন করবেন। প্রায় ৩,০৩০ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত এই ৬-লেন এক্সট্রাডোজড প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট (পিএসসি) সেতু গुवাহাটি ও নর্থ গुवাহাটিকে সংযুক্ত করে। এটি পূর্বোত্তরের প্রথম এক্সট্রাডোজড সেতু এবং এর ফলে দুই শহরের মধ্যে ভ্রমণের সময় মাত্র ৭ মিনিটে নেমে আসবে। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বিবেচনায় সেতুর নির্মাণে ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বেয়ারিং এবং বেস আইসোলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য উচ্চ-কার্যকারিতা স্টে কেবল ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম (বিএইচএমএস) যুক্ত করা হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি সনাক্ত করতে সাহায্য করবে।
দুপুর ১:৩০ টায় প্রধানমন্ত্রী গुवাহাটি শহরের লাচিত ঘাটে ৫,৪৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য হলো সংযোগ বৃদ্ধি, ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, উচ্চ শিক্ষা উত্সাহিত করা এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নত করা।
কামরূপ জেলার আমিংগাঁওয়ে পূর্বোত্তর অঞ্চলের জন্য জাতীয় ডেটা কেন্দ্রের উদ্বোধনও হবে। ৮.৫ মেগাওয়াটের অনুমোদিত ক্ষমতা এবং প্রতি র্যাক গড়ে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মিশন-ক্রিটিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন হোস্ট করবে এবং অন্যান্য জাতীয় ডেটা কেন্দ্রের জন্য ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার হিসেবেও কাজ করবে। এটি ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভিশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পূর্বোত্তরের ডিজিটাল সেবাগুলোর জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের গুজরাট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটেরও উদ্বোধন করবেন, যা অঞ্চলে ব্যবস্থাপনা ও উচ্চ শিক্ষাকে বড় ধরনের উত্সাহ দেবে। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী-ইবাস সেবা পরিকল্পনার অধীনে ২২৫টি বৈদ্যুতিক বাসের উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্যে গুজরাটে ১০০, নাগপুরে ৫০, ভাবনগরে ৫০ এবং চণ্ডীগড়ে ২৫টি বাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চারটি শহরের ৫০ লাখেরও বেশি নাগরিককে পরিষ্কার, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সুবিধা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, যা শহুরে গতিশীলতা এবং জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে।
–
ভিকিউ/এএস














Leave a Reply