
নতুন দিল্লি, ফেব্রুয়ারি 19: হিন্দি সাহিত্য জগতে অনেক লেখক রয়েছেন, যাঁদের প্রতিটি শব্দ অর্থে ভরা। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ড. নামভার সিংহ, যিনি ‘কবিতার নতুন প্রতিমান’ গড়েছেন এবং হিন্দি সাহিত্য শিক্ষার্থী, লেখক ও পাঠকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছেন।
নামভার সিংহ ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন, কিন্তু তাঁর রচনা ও চিন্তা আজও হিন্দি সাহিত্য শিক্ষার্থী, লেখক ও পাঠকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
১৯২৬ সালের ২৮ জুলাই উত্তর প্রদেশের চন্দৌলি জেলার জিয়নপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী নামভার সিংহ হিন্দি সমালোচনাকে নতুন দিশা ও প্রতিমান দিয়েছেন। তিনি সমালোচনাকে শুধুমাত্র বিশ্লেষণের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি সৃজনশীল ও চিন্তনশীল শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর লেখা ছিল স্পষ্ট, গভীর, দেশজ এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তায় ভরা।
নামভার সিংহের সাহিত্যিক জীবন কবিতা দিয়ে শুরু হয়। ১৯৪১ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘ক্ষত্রিয়মিত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় প্রগতিশীল ও সমকালীন সমালোচনার ক্ষেত্রে গড়ে ওঠে। কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিন্দি সাহিত্যে এমএ ও পিএইচডি করার পর তিনি অধ্যাপনায় যোগ দেন। তাঁর গুরু আচার্য হজারি প্রসাদ দ্বিবেদী তাঁর মধ্যে সমালোচনার গভীর বোঝাপড়া তৈরি করেন।
তাঁর প্রধান রচনাগুলি হিন্দি সাহিত্যে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘কবিতার নতুন প্রতিমান’ ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়, যা আধুনিক হিন্দি কবিতার উন্নয়ন এবং নতুন মূল্যবোধের অনুসন্ধান করে, এবং এই জন্য লেখককে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
এছাড়াও, ‘ছায়াবাদ’ বইটিতে ছায়াবাদী কবিতার সৌন্দর্য, দর্শন ও সীমাবদ্ধতার গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে। ‘দ্বিতীয় পরম্পরার অনুসন্ধান’ হিন্দি সাহিত্যে মূলধারার বাইরে লুকিয়ে থাকা বিকল্প পরম্পরাগুলির অনুসন্ধান করে। ‘ইতিহাস ও সমালোচনা’ সাহিত্যিক ইতিহাস লেখন এবং সমালোচনার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। ‘বাদ-বিবাদ ও সংলাপ’ তাঁর সাহিত্যিক বিতর্ক, আলোচনা ও সংলাপের শৈলীকে তুলে ধরে।
নামভার সিংহ সমকালীন সাহিত্যকে তাঁর সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়েছিলেন এবং প্রগতিবাদের পর নতুন সাহিত্যিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হিন্দির পাশাপাশি উর্দু, বাংলা ও সংস্কৃতেও পারদর্শী ছিলেন। তিনি ‘জনযুগ’ (সাপ্তাহিক) এবং ‘সমালোচনা’ (ত্রৈমাসিক) পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন।
রাজনীতির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল। ১৯৫৯ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির টিকিটে চন্দৌলি থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার পর তাঁকে বি.এইচ.ইউ. থেকে চাকরি ছাড়তে হয়। এরপর তিনি সাগর, যোধপুর এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। জেএনইউ-তে তিনি ভারতীয় ভাষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সভাপতি ছিলেন।
তাঁর রচনাগুলির জন্য সাহিত্য একাডেমি ফেলোশিপসহ বহু সম্মান লাভ করেছেন।














Leave a Reply