Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

হরমুজ প্রণালী পার করতে ভারতীয় নৌবাহিনীর গাইডেন্স

হরমুজ প্রণালী পার করতে ভারতীয় নৌবাহিনীর গাইডেন্স

নয়াদিল্লি, মার্চ ২৫: হরমুজ প্রণালী বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান এই রুটে গ্লোবাল এনার্জি ট্রেডকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা বিশ্বব্যাপী জীবনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। ভারতকে তার এনার্জি ট্রেডের গতিবিধির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সহায়তায় ভারতীয় এনার্জি ট্রেড ধীরে ধীরে দেশে পৌঁছাচ্ছে।

বিশেষ বিষয় হলো, ভারতীয় নৌবাহিনী শুধু ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপত্তা প্রদান করছে না, বরং তাদের হরমুজ পার করতে গাইডও করছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, নৌবাহিনী সেই সব জাহাজের সাথে যোগাযোগ রাখছে, যেগুলো একে একে ফারস উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে বেরিয়ে আসছে। নিরাপত্তার দিক থেকে নৌবাহিনী এই জাহাজগুলোকে নির্দেশনা দিচ্ছে কিভাবে এবং কোন পথে হরমুজ প্রণালী পার করতে হবে। হরমুজ প্রণালী পার করার পর ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্রিগেট তাদের নিরাপদে অর্ধেক পথ পর্যন্ত escort করছে।

ভারতীয় নৌবাহিনী ইতোমধ্যে তার অবস্থান ওমানের উপসাগরের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, escort অপারেশন অব্যাহত রাখতে ওই অঞ্চলে যথেষ্ট যুদ্ধজাহাজ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী শিপিং লাইনগুলো হাইড্রোগ্রাফিক চার্টের ভিত্তিতে তৈরি নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে। এগুলোর অভাব হলে সমুদ্রে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান অণ্ডারওয়াটার মাইন স্থাপন করেছে। এই মাইনগুলি যেকোনো জাহাজের সাথে সংঘর্ষ হলে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য বিপদও হতে পারে। তাই নৌবাহিনী ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদ রুট নির্দেশ করতে সহায়তা করছে।

হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের পৃষ্ঠ থেকে এটি নিরাপদ মনে হলেও, পানির নিচে অনেক বিপদ লুকিয়ে থাকে। সমুদ্রের গভীরতা সব জায়গায় সমান নয়—কিছু জায়গায় গভীরতা বেশি, আবার কিছু জায়গায় কম। হার্বারের কাছে গভীরতা কয়েক মিটার হয়, কিন্তু হাই সিতে এটি কয়েকশো মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সমুদ্রে আসা সুনামির মতো ঘটনাগুলি সমুদ্রের তলদেশে ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটায়। এই অদৃশ্য বিপদগুলোর মোকাবেলা করতে হাইড্রোগ্রাফিক ম্যাপের প্রয়োজন হয়। এগুলো সার্ভে ভেসেল দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। এই ভেসেলগুলি সমুদ্রের তলকে স্ক্যান করে চার্ট তৈরি করে এবং নিরাপদ নেভিগেশন রুট চিহ্নিত করে।

আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চলাচলকারী বেশিরভাগ জাহাজ—যদিও তারা যুদ্ধজাহাজ, কন্টেইনার জাহাজ বা তেল ও গ্যাসের ট্যাঙ্কার—ভারত দ্বারা তৈরি হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট ব্যবহার করে।

ভারতীয় নৌবাহিনী শুধুমাত্র ভারতের জন্য নয়, বরং বন্ধু রাষ্ট্রগুলির অনুরোধে তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের সার্ভে করতেও সহায়তা করে। ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলের অনেক দেশের সাথে ভারতের চুক্তি রয়েছে, যার অধীনে ভারত তাদের সমুদ্র অঞ্চলের হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করে নেভিগেশন চার্ট প্রস্তুত করে। একবার চার্ট প্রস্তুত হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ হয়ে যায়। যে কোনো দেশ বা কোম্পানি এটি কিনে তাদের সমুদ্র কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *