
পুরী, মার্চ ২৬: উপমুখ্যমন্ত্রী প্রভাতী পরিদা বুধবার গোপ ব্লকের বেদপুর পঞ্চায়েতের বলরাম দাস গাদীতে মা লক্ষ্মী মন্দির এবং শ্রী বলরাম দাস গাদীর পুনর্নির্মাণের জন্য শিলান্যাস করেন। তিনি বলেন, “লোকেদের দীর্ঘদিনের আশা এখন পূর্ণ হতে চলেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভক্ত-কবি বলরাম দাসকে কবি, সন্ত এবং ভক্ত হিসেবে ব্যাপকভাবে জানানো হয়। তাঁর রচনা লক্ষ্মী পুরাণে সমাজ সংস্কার, ছোঁয়া-ছুঁইয়ের বিরোধিতা এবং নারীদের ক্ষমতায়নের ধারণা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ভক্তি আন্দোলনের একজন প্রধান সমর্থক এবং ভক্তি যুগের পঞ্চসখার বিশেষ সদস্য ছিলেন।
মনে করা হয়, তাঁর ভক্তি ও নিষ্ঠার কারণে বলরাম দাস এই পবিত্র স্থানে ভগবান জগন্নাথ এবং মা লক্ষ্মীর একসাথে দিভ্য দর্শন লাভ করেছিলেন। তাই, এই স্থানকে ‘গুপ্ত শ্রীক্ষেত্র’ বলা হয়।
লক্ষ্মী পুরাণ ওড়িয়া সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উত্তরাধিকারকে প্রতীকী করে। উপমুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রকল্পটি প্রায় ২৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে, এবং এই মন্দির নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলে পর্যটনের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
শ্রী বলরাম দাস গাদি ওড়িশার পুরী জেলার গোপ অঞ্চলের এরবঙ্গা গ্রামে অবস্থিত একটি পবিত্র সমাধি স্থান। এটি ভক্ত কবি বলরাম দাসের সমাধি এবং তাঁর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত গুপ্ত ক্ষেত্রের সাথে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বলরাম দাস ওড়িয়া সাহিত্যের ভক্তি যুগের পঞ্চসখার মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ সন্ত-কবি ছিলেন। তাঁর পিতা সোমনাথ মহাপাত্র এবং মাতা মহামায়া দেবী ছিলেন।
তিনি গজপতি রাজা প্রতাপরুদ্র দেবের দরবারে মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর সংস্পর্শে এসে রাজকীয় সেবা ত্যাগ করে সম্পূর্ণরূপে ভক্তি পথে অগ্রসর হন। তিনি ভগবান জগন্নাথের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা জগমোহন রামায়ণ, যা ওড়িয়া ভাষায় রামায়ণের প্রথম পূর্ণ কৃতিরূপে গণ্য হয়।













Leave a Reply