
জম্মু, মে ৬: জম্মু কাশ্মীরের পেহলগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি সন্ত্রাসী হামলা ঘটে, যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। এর পর, ৬-৭ মে ২০২৫ রাতের দিকে ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে হামলা চালায়। অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তিতে জম্মুর বেদ মন্দিরে প্রার্থনা ও বেদ মন্ত্র পাঠের আয়োজন করা হয়। জপ-তপকারী যুবকরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং-এর ছবি হাতে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
মন্দিরে পূজা-অর্চনা করতে আসা আয়ুষ সংবাদ সংস্থার সাথে কথা বলার সময় বলেন, “সন্ত্রাসীরা পেহলগামে হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষের হত্যা করেছে। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নিয়েছিল। পেহলগামে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য আজ আমরা মন্ত্রোচ্চারণ করেছি।”
মন্ত্রোচ্চারণকারী প্রধান বলেন, “২২ এপ্রিল পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা পেহলগামে নিরপরাধ মানুষের হত্যা করেছে। এই নিরপরাধ মানুষের আত্মার শান্তির জন্য আজ আমরা বেদ মন্ত্র উচ্চারণ করেছি।”
জম্মু-কাশ্মীরের পেহলগামে ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের নির্মম হত্যার পর ভারত যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা বিশ্বব্যাপী আধুনিক সামরিক ইতিহাসে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামক এই অভিযানে সন্ত্রাসী কাঠামোকে গভীর আঘাত দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের সামরিক ক্ষমতা, কৌশলগত চিন্তা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির স্পষ্ট প্রদর্শন ঘটেছে।
এই অপারেশনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর সঠিকতা এবং সীমিত সময়। মাত্র চার দিনের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের সকল প্রধান লক্ষ্য অর্জন করে এবং পরে প্রতিষ্ঠিত সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করে। যেখানে বিশ্বের অনেক সংঘাত বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, সেখানে ভারত একটি নিয়ন্ত্রিত এবং উদ্দেশ্যমূলক সামরিক কার্যক্রমের উদাহরণ স্থাপন করেছে।
অপারেশন সিন্দুরের সময় ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত নয়টি বড় সন্ত্রাসী ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব ঘাঁটি লস্কর-এ-তৈয়বা, জইশ-এ-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো সংগঠনের জন্য লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করছিল। সিয়ালকোট ও বাহাওলপুরের মতো অঞ্চলে পরিচালিত কার্যক্রম স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভারতের পৌঁছানো এখন আর কেবল সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। এই সময় ১০০-এরও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়, যাদের মধ্যে অনেক শীর্ষ কমান্ডারও ছিল।
ভারত যেখানে সন্ত্রাস ও সামরিক কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, সেখানে নাগরিকদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এর বিপরীতে, পাকিস্তান নাগরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এই অপারেশনে ভারতীয় বায়ুসেনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাফাল বিমান, স্ক্যাল্প মিসাইল এবং হ্যামার বোমার ব্যবহার করে ভারতীয় বায়ুসেনা মাত্র ২৩ মিনিটে তাদের মিশন সম্পন্ন করে। পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে জ্যাম করে এই হামলাগুলি চালানো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত শ্রেষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অপারেশন সিন্দুর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘জয়েন্টনেস’ অর্থাৎ তিনটি সেনার সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে। যেখানে নৌবাহিনী সমুদ্রের চাপ বজায় রেখেছে, সেখানে স্থলসেনা ও বায়ুসেনা সমন্বিতভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি, স্বদেশী প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তির ভূমিকা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। ব্রহ্মোস, আকাশ, তেজস এবং অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের মতো প্ল্যাটফর্ম এই অপারেশনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।














Leave a Reply