
বেইজিং, এপ্রিল ৪: গত বছর ২০২৫ সালে চীন ভালো পারফরম্যান্স করেছে। জিডিপি বৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছিল এবং মোট জিডিপি ১৪০.১৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত পৌঁছেছে। শহরগুলোতে ১.২৬৭ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বেকারত্বের হার গড়ে ৫.২ শতাংশ ছিল। রপ্তানিতে বৈচিত্র্য এসেছে এবং বিদেশী বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রযুক্তি এবং শিল্পে বড় অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় প্রতি বছর গড়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ-মূল্যের উদ্ভাবনী পেটেন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উৎপাদন খাত বিশ্বে মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে ১৬ বছর ধরে প্রথম স্থানে রয়েছে। চীনের গ্রামীণ অঞ্চলে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের পর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। মোটের উপর, চীনের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এই বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীনের দুই সেশনের সভায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং সরকারী কাজের রিপোর্ট উপস্থাপন করেছেন, যেখানে ২০২৬ সালের জন্য অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সাল ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছর।
১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনায় সরকার ২০২৬ সালের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্য ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এটি কিছুটা বাস্তবসম্মত কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবে সরকার বলছে যে তারা এর চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করবে। এই লক্ষ্যটি উচ্চ-গুণগত উন্নয়নের উপর ফোকাস করে, কেবল দ্রুত বৃদ্ধির উপর নয়। বেকারত্বের হার প্রায় ৫.৫ শতাংশ রাখার লক্ষ্য রয়েছে। ১.২ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে এবং সিপিআই (মুদ্রাস্ফীতি) প্রায় ২ শতাংশ থাকবে।
সরকারের প্রধান ফোকাস গৃহস্থালী চাহিদা বৃদ্ধি করা। মানুষ যাতে বেশি খরচ করে তার জন্য কম আয়ের মানুষের আয় বাড়ানো, সম্পত্তির আয় উন্নত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃদ্ধদের জন্য পরিষেবাগুলি বাড়ানো হবে। শিশুদের পরিবারগুলিকে সহায়তা দেওয়া হবে। ছুটির নিশ্চয়তা থাকবে। পাশাপাশি উদ্ভাবন, এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সবুজ শক্তির উপর জোর দেওয়া হবে। প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা, শিল্প উন্নয়ন এবং সবুজ উন্নয়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো চীনের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল এবং দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রথম বছরেই শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করা হচ্ছে যাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি দ্বিগুণ করা যায়।
বিশ্বে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। যদি এখানে বৃদ্ধি ভালো হয়, তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন শক্তিশালী হবে। পণ্যের চাহিদা বাড়বে এবং অনেক দেশের জন্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। সবুজ প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে চীনের অবদান জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোডের মতো প্রকল্পগুলি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য লাভজনক হবে। মোটের উপর, চীনের স্থিতিশীল অগ্রগতি বিশ্ব অর্থনীতিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
(সুত্র- চায়না মিডিয়া গ্রুপ, বেইজিং)














Leave a Reply