
পাটনা, মে ২৪: বিহারে সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনায় আসা ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিহার সরকারের রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়াল এই অনলাইন প্রচারনার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক অবদান রাখছেন না।
কটিহারে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ অভিযানের সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় দিলীপ জয়সওয়াল বলেন, কিছু বেকার যুবক এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, ভারতের গণতন্ত্র এত শক্তিশালী যে এই ধরনের ট্রেন্ড বা প্রচারনার মাধ্যমে তাকে দুর্বল করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করে এই ব্যক্তিদের ‘কক্রোচ’ এবং ‘চूहা’র সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের লোকেরা ভারতীয় গণতন্ত্রকে ক্ষতি করতে পারে না। তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়েছে।
‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ নামের এই অনলাইন ট্রেন্ডটি ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানির পর আলোচনায় আসে। শুনানির সময় বিচারপতি সূর্যকান্ত মন্তব্য করেন যে কিছু বেকার যুবক, যারা পেশাগতভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না, তারা কক্রোচের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা হয়, যার পর বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করেন যে তার বক্তব্যকে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে।
এর পরদিন অভিজীত ডিপকে নামের একজন সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারী এক্স প্ল্যাটফর্মে ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’র জন্য গুগল ফর্ম শেয়ার করে লোকজনকে রেজিস্ট্রেশন করতে আহ্বান জানান। এটি প্রথমে একটি ইন্টারনেট রসিকতা ও ব্যঙ্গ হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বেকারত্ব, রাজনীতি ও ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অসন্তোষ ও তির্যকতার বড় প্রতীক হয়ে ওঠে।
এছাড়াও, দিলীপ জয়সওয়াল পশ্চিমবঙ্গে ঈদ-উল-আজহার সময় গোহত্যা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে গরুর বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে এবং তিনি গোসংরক্ষণের পক্ষে।
মন্ত্রীর এই দুই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।














Leave a Reply