
নোয়েডা, এপ্রিল ৭: নোয়েডার সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ একটি বড় সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে এবং চারজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অপরাধীরা টেক সাপোর্টের নামে বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে তাদের হ্যাকিং এবং ডেটা চুরির ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। পুলিশ তাদের সেক্টর-৭৬, নোয়েডা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযান প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে, অভিযুক্তরা বিদেশি নাগরিকদের থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করেছে। তাদের কাছ থেকে চারটি ল্যাপটপ, আটটি মোবাইল ফোন, চারটি মাইক্রোফোন-হেডফোন এবং দুটি রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, তারা ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পেইড বিজ্ঞাপন চালাত, যেখানে টোল-ফ্রি নম্বর দেওয়া থাকত। বিদেশি নাগরিক যখন এই নম্বরে কল করতেন, তখন কলটি সরাসরি অভিযুক্তদের ল্যাপটপে ইনস্টল করা কলিং সফটওয়্যারে রিসিভ হত। এরপর অভিযুক্তরা নিজেদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাত যে তাদের কম্পিউটার বা ডিভাইস হ্যাক হয়েছে। এরপর স্ক্রীন শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সিস্টেমে প্রবেশ করে তাদের ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ করা হত।
অভিযুক্তরা কম্পিউটার স্ক্রীন ব্ল্যাক করে দিত যাতে ভুক্তভোগী ভয় পেয়ে যায় এবং তাদের কথায় আসতে বাধ্য হয়। এরপর তাদের অ্যাকাউন্টে উপলব্ধ অর্থের ভিত্তিতে ৩৫০ থেকে ২০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হত। যেসব ক্ষেত্রে বেশি অর্থ হত, সেগুলো ‘সিনিয়র এজেন্ট’ এর কাছে স্থানান্তরিত করা হত। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তারা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত।
পুলিশ উদ্ধারকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণও পেয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ বিলাল (২৬ বছর), দেব কাপাহী (২৫ বছর), অভিষেক মুখেজা (২৭ বছর) এবং কুশাগ্র নিম্বেকর (২৪ বছর)।
পুলিশ জানিয়েছে, সকল অভিযুক্ত শিক্ষিত এবং বিদেশি এক্সেন্টে কথা বলে সহজেই মানুষকে তাদের জালে ফাঁসাতে সক্ষম ছিল। পুলিশ জনগণের প্রতি সাইবার সচেতনতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো সন্দেহজনক কল বা বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস না করতে, স্ক্রীন শেয়ারিং থেকে বিরত থাকতে এবং তাদের ব্যাংকিং তথ্য কারও সাথে শেয়ার না করতে বলা হয়েছে। সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ অথবা ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানাতে হবে।













Leave a Reply