Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

ইরানের সঙ্গে আলোচনা: পাকিস্তানের ভূমিকা ও আমেরিকার কৌশল

ইরানের সঙ্গে আলোচনা: পাকিস্তানের ভূমিকা ও আমেরিকার কৌশল

ওয়াশিংটন, এপ্রিল ৯: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং পর্দার পেছনে চলা ‘শান্ত কূটনীতি’ও বড় সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর জন্য আমেরিকা পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক-চ্যানেল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

লন্ডন ভিত্তিক সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস সরাসরি আলোচনা না করে ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছিয়েছে। আমেরিকা পাকিস্তানকে ‘বার্তা পরিবাহক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে, যাতে তারা ইরানের কাছে আমেরিকার শর্ত ও প্রস্তাব পৌঁছাতে পারে।

এটি সম্ভবত কৌশলগত কারণে, কারণ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের মাধ্যমে পাঠানো বার্তা ইরানের জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক সপ্তাহ ধরে চলা একটি গোপন কূটনৈতিক খেলা এখন প্রকাশিত হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করানোর দায়িত্ব পাকিস্তানকে দিয়েছে এবং ইসলামাবাদ এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাক-চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করেছে।

আমেরিকা চায় ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে এবং যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত হোক। এজন্য পাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী পরিচয়কে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে আমেরিকার প্রস্তাব তেহরানের জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।

এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর। তিনি আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। সময়সীমা নিকটবর্তী হলে মুনীর ট্রাম্প, উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভেন্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন।

সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তান আমেরিকার তৈরি ১৫-দফা পরিকল্পনা ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়, এবং তেহরানও ৫ ও ১০ পয়েন্টের জবাবি প্রস্তাব আমেরিকার কাছে পাঠায়। অব্যাহত ব্যাক-চ্যানেল আলোচনা শেষে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু দিক নিয়ে সীমিত ছাড় দিতে রাজি হয়।

অবশেষে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েল দ্বারা প্রকাশিত হয়। তবে এই সময় ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য ছিল কঠোর, এবং তিনি সতর্ক করেন যে শর্ত না মানলে ইরানকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

অন্য একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থানও আমেরিকার সঙ্গে অনেকাংশে মিলে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ট্রাম্পের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পরেই প্রকাশিত হয়েছিল।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই পোস্টটি তখন প্রকাশিত হয় যখন ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা নিকটবর্তী ছিল এবং পাকিস্তান উভয় পক্ষের জন্য একটি ‘নির্গমন পথ’ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে পর্দার পেছনে কূটনৈতিক সমন্বয় অনেক গভীর ছিল, যদিও প্রকাশ্যে বক্তব্য ভিন্নভাবে চলছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *