
নতুন দিল্লি, এপ্রিল ৩০: ইনভেস্ট ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নিবৃত্তি রায় ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ভারতকে এগিয়ে যেতে হলে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, শক্তিশালী ইকোসিস্টেম এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের উপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
নিবৃত্তি রায় জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে ভারতকে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল হতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান প্রযুক্তির পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে, যার জন্য বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, তার লক্ষ্য হলো ধারাবাহিক উন্নতি করা—আজকে কাল থেকে এবং কালকে আজ থেকে ভালো করা। ভারতকে প্রতিটি দেশের কাছ থেকে কিছু না কিছু শেখার প্রয়োজন, যাতে উন্নয়নের গতি বাড়ানো যায়।
চীনের মডেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ক্লাস্টার-ভিত্তিক উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়, যেখানে পুরো ইকোসিস্টেম একটি জায়গায় বিকশিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সটাইল শিল্পে ফাইবার থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য সবকিছু একই অঞ্চলে তৈরি হয়। সেমিকন্ডাক্টর ও ডেটা সেন্টার খাতেও একইভাবে শক্তিশালী শিল্প ক্লাস্টার তৈরি করতে হবে।
ভিয়েতনামের প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে ৫০টিরও বেশি ফ্রি ট্রেড চুক্তি (এফটিএ) রয়েছে, যা তাকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় সুবিধা দেয়। ভারতও এখন নতুন যুগের বাণিজ্য চুক্তিতে শুধুমাত্র বাজার খুলতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে প্রযুক্তি, সম্পদ ভাগাভাগি এবং মূল্য চেইন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
নিবৃত্তি রায় বলেন, কেবল নীতিগত সংস্কারই যথেষ্ট নয়, বরং শক্তিশালী অবকাঠামোও প্রয়োজন। সরকার সড়ক, বন্দর এবং বিমানবন্দরে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু এখন ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’র উপরও মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি রাজ্যে শুধু একটি বড় শহর নয়, বরং একাধিক উন্নত শহর থাকা উচিত—যেমন উত্তরপ্রদেশে একাধিক নয়ডা এবং তেলেঙ্গানায় একাধিক হায়দ্রাবাদ তৈরি করা উচিত। এতে বিনিয়োগ ছোট শহরগুলোতে পৌঁছাবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
এফডিআই কিছু নির্বাচিত রাজ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কম ঝুঁকির উন্নত এলাকাগুলো বেছে নেন। তবে বড় শহরগুলোতে জায়গা কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিনিয়োগ স্বাভাবিকভাবেই ছোট শহরের দিকে চলে আসে।
সরকার এবং ইনভেস্ট ইন্ডিয়া এখন টিয়ার-২, টিয়ার-৩ এবং টিয়ার-৪ শহরগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। এর আওতায় রাজ্যের শক্তি, দুর্বলতা, সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জের বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং এমনকি পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোও এখন সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে, যা একটি ইতিবাচক সংকেত।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং উন্নত প্রযুক্তির বিষয়ে নিবৃত্তি রায় বলেন, ভারতের প্রায় ৬০ লাখ সফটওয়্যার পেশাদার রয়েছে, যা একটি বড় শক্তি। তিনি জানান, ভারত অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এতে আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই-এর সঠিক ব্যবহার অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করার জন্য করা উচিত, যাতে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি সুবিধা হয়।
–
ডিবিপি












Leave a Reply