
নতুন দিল্লি, ৩০ মে: ৩১ মে আকাশে পূর্ণিমার চমৎকার দৃশ্য দেখা যাবে। পূর্ণিমা হল সেই খগোলীয় অবস্থান, যখন চাঁদের পৃথিবীর দিকে থাকা অংশ সূর্যের আলোতে সম্পূর্ণরূপে আলোকিত হয়। এই সময় চাঁদ তার সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপে দেখা যায়। তবে, প্রতি রাতে চাঁদের আকার এবং রূপ পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন চাঁদের বিভিন্ন কালার (মুন ফেজ) এর কারণে ঘটে, যা প্রায় ২৯.৫ দিনের চক্রে পরিবর্তিত হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য আমাদের সৌরজগতের একমাত্র বস্তু, যা স্বয়ং আলোকিত হয়। সূর্যের আলো পৃথিবী এবং চাঁদে পড়ে। চাঁদ নিজে আলো তৈরি করে না, বরং সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। এই প্রতিফলিত আলো আমরা চাঁদের আলো হিসেবে দেখি। চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরতে থাকে, যার ফলে পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদের আলোকিত অংশ পরিবর্তিত হয়।
চাঁদের মোট আটটি প্রধান কালার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: অমাবস্যা (নিউ মুন), বাড়তে থাকা অর্ধচন্দ্র (ভ্যাক্সিং ক্রিসেন্ট), প্রথম চতুর্থাংশ (ফার্স্ট কোয়ার্টার), বাড়তে থাকা গিবাস (ভ্যাক্সিং গিবাস), পূর্ণিমা (ফুল মুন), কমতে থাকা গিবাস (ওয়েনিং গিবাস), তৃতীয় চতুর্থাংশ (থার্ড কোয়ার্টার) এবং কমতে থাকা অর্ধচন্দ্র (ওয়েনিং ক্রিসেন্ট)। এই পুরো চক্র প্রায় প্রতি ২৯.৫ দিনে পুনরাবৃত্তি হয়।
পূর্ণিমা ঘটে যখন পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্য প্রায় এক লাইনে থাকে। পৃথিবী থেকে দেখলে চাঁদ সূর্যের ঠিক বিপরীত দিকে থাকে। এই অবস্থায় চাঁদের পুরো আলোকিত অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় এবং এটি গোলাকার ও অত্যন্ত উজ্জ্বল মনে হয়। সাধারণত পূর্ণিমার চাঁদ সূর্যাস্তের সময় ওঠে এবং সূর্যোদয়ের সময় অস্ত যায়।
খগোলবিজ্ঞানে সুপারমুন, ব্লাড মুন, ব্লু মুন এবং হারভেস্ট মুনের মতো বিশেষ চাঁদীয় ঘটনা ঘটে। সুপারমুনের সময় চাঁদ পৃথিবীর তুলনায় কাছাকাছি থাকে, ফলে এটি সাধারণের চেয়ে বড় এবং উজ্জ্বল দেখায়। ব্লাড মুনের সময় চন্দ্রগ্রহণের অবস্থায় চাঁদ লাল রঙের দেখা যেতে পারে।
ব্লু মুনের নাম শুনে চাঁদের নীল রঙের ধারণা হতে পারে, কিন্তু আসলে এর রঙ নীল নয়। সাধারণত ব্লু মুন সেই দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বলা হয়, যা একটি ক্যালেন্ডার মাসে ঘটে। ৩১ মে’র পূর্ণিমা একটি ব্লু মুন হবে। খগোলবিজ্ঞানে একটি অন্য সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি মৌসুমে চারটি পূর্ণিমা হলে তৃতীয় পূর্ণিমাকেও ব্লু মুন বলা হয়।
–
এমটি/এএস












Leave a Reply