
এভিয়ান, জুন ১৮: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেছেন। উভয় নেতা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য, শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন পর্যালোচনা করেছেন।
মোদী বলেছেন, ভারত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য যে অগ্রগতি হয়েছে, তা স্বাগত জানায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালী খোলা থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিনি এও বলেন যে, এই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের এবং সমুদ্র কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
মোদী ও ট্রাম্পের এই বৈঠক এমন সময়ে হয়েছে যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের কৌশলগত সহযোগিতা ক্রমাগত বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়ে চলেছে। বাজারে প্রবেশের সমস্যা সমাধান এবং নতুন প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
শক্তি নিরাপত্তাও ভারত-আমেরিকা অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারত তার কাঁচা তেলের আমদানির উৎসগুলোতে বৈচিত্র্য আনছে এবং আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় চুক্তিগুলি পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়েছে।
পশ্চিম এশিয়া নিয়ে দুই নেতার আলোচনা এই বিষয়টি প্রতিফলিত করে যে, ভারত এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা কতটা গুরুত্ব দেয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেলের সরবরাহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যেখানে গত কয়েক বছরে উত্তেজনা দেখা গেছে।
ভারত, যা তার শক্তির প্রয়োজনের জন্য বেশিরভাগ সময় আমদানির উপর নির্ভরশীল, বারবার বলেছে যে, সমুদ্র বাণিজ্য অবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকা উচিত এবং সমুদ্র কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
এভিয়ানে ট্রাম্প ও মোদীর বৈঠক দেখায় যে, উভয় দেশ তাদের অংশীদারিত্বকে কতটা গুরুত্ব দেয়। এই অংশীদারিত্ব শুধুমাত্র দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই আলোচনার মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
–














Leave a Reply