Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

মুম্বাইয়ে সাইবার ঠকবাজির মাধ্যমে ৪০.৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারকরা

মুম্বাইয়ে সাইবার ঠকবাজির মাধ্যমে ৪০.৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারকরা

মুম্বাই, মে ৬: মুম্বাইয়ের ভাণ্ডুপ এলাকায় সাইবার ঠকবাজির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এখানে ঠকবাজরা দিল্লির বোমা হামলা এবং মানি লন্ডারিং মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজারকে ৫৪ দিন ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে ৪০.৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর মুম্বাই সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে।

পীড়িত রাজেন্দ্র, যিনি মহারাষ্ট্র স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ম্যানেজার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন, ১০ মার্চ সিগন্যাল অ্যাপে ‘এটিএস ডিপার্টমেন্ট’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল পান। কলকারী নিজেকে দিল্লি এটিএসের কর্মকর্তা ‘পিএসআই সিংহ’ পরিচয় দেন এবং জানিয়ে দেন যে জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া দিল্লির বোমা হামলা এবং মানি লন্ডারিং মামলায় তার নাম এসেছে।

ঠকবাজরা রাজেন্দ্রকে জানান যে তার আধার এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে কর্ণাটকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যেখানে ২.৬৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। তারা সুপ্রিম কোর্টের আদেশের উল্লেখ করে গ্রেফতারি এবং সম্পত্তি জব্দের হুমকি দেয়।

ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে ঠকবাজরা রাজেন্দ্রকে বাড়ির একটি আলাদা ঘরে থাকতে, কাউকে না বলতে এবং ক্রমাগত ভিডিও কলের উপর থাকতে বাধ্য করে। মানসিক চাপের কারণে রাজেন্দ্র প্রথমে ২.৯০ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন। এরপর ঠকবাজরা তাকে শেয়ার বাজারে ২৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ বিক্রি করতে বাধ্য করে, যার মধ্যে ২৮ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়।

এছাড়াও, ঠকবাজরা ‘বেল সিকিউরিটি’র নামে ১০ লাখ টাকা আদায় করে, যা রাজেন্দ্রের স্ত্রী ঋণ নিয়ে দেন। তারা আশ্বাস দেয় যে পুরো টাকা দুই দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে এবং বিষয়টি শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু টাকা পাওয়ার পর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

কয়েকদিন অপেক্ষার পর যখন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, তখন রাজেন্দ্র ঠকির বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি ৩ মে সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০-এ অভিযোগ দায়ের করেন এবং ৪ মে সাইবার সেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন।

মুম্বাই পুলিশের মতে, এই ঘটনা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে নতুন সাইবার অপরাধের একটি বিপজ্জনক প্রবণতা দেখায়, যেখানে ঠকবাজরা সরকারি সংস্থার ভয় দেখিয়ে মানুষকে মানসিকভাবে চাপ দেয় এবং বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

বর্তমানে, সাইবার সেল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *