Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

बिहार: नवादा জেলার প্রাচীন মন্দির থেকে ১৮টি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি উদ্ধার

बिहार: नवादा জেলার প্রাচীন মন্দির থেকে ১৮টি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি উদ্ধার

পাটনা, এপ্রিল ১৯: বিহারের নবাদা জেলার একটি প্রাচীন মন্দির থেকে ১৮টি দুর্লভ পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাওয়া গেছে, যা পুরো এলাকায় উৎসাহ এবং আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি ওয়ারিসলিগঞ্জ ব্লকের চাঁদিপুর গ্রামের একটি পুরনো মন্দিরে হয়েছে।

এই আবিষ্কারটি কেন্দ্র সরকারের ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ এর আওতায় করা হয়েছে এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এই পাণ্ডুলিপিগুলি চাঁদিপুর গ্রামের ঐতিহাসিক শ্রী ঠাকুর রাধা রমন লাল জী মন্দির থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা ১৮৮৩ সালে নির্মিত হয়।

শনিবার, ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট কমিশনার নীলিমা সাহুর নেতৃত্বে একটি পরিদর্শনের সময় বিস্তারিত জরিপে ১৮টি হাতলিখিত এবং ব্লক প্রিন্টেড পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাণ্ডুলিপিগুলি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের সমৃদ্ধ বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন করে।

সমস্ত পাণ্ডুলিপিকে ‘জ্ঞান ভারতম’ এর অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য করার একটি বড় পদক্ষেপ।

‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ এর উদ্দেশ্য হলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলির চিহ্নিতকরণ এবং সুরক্ষা। অনেক পাণ্ডুলিপি তালপাতা, ভোজপত্র, কাপড় এবং নাজুক কাগজে লেখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, এই পাণ্ডুলিপিগুলিতে আয়ুর্বেদ ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা, সাহিত্য ও দর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের পাশাপাশি স্থানীয় ইতিহাস সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য রয়েছে।

সরকার আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এই গ্রন্থগুলির ডিজিটাইজেশন করে জাতীয় ডিজিটাল সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যাতে গবেষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য এগুলি সহজলভ্য হয়।

প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, পাণ্ডুলিপিগুলির মালিকানা বর্তমান রক্ষকদের কাছে থাকবে, তবে সরকার শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিকভাবে তাদের ডিজিটাইজেশন এবং সংরক্ষণ করবে।

অধিকারীরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যদি তাদের কাছে এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থাকে, তবে তার তথ্য প্রদান করুন, যাতে দেশের এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করা যায়।

চাঁদিপুর থেকে পাওয়া এই ১৮টি পাণ্ডুলিপি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক নথি নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক এবং বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের জীবন্ত পরিচয়। ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ এর আওতায় তাদের সংরক্ষণ আগামী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভান্ডার তৈরি করবে।

ডিএসসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *