
নতুন দিল্লি, মার্চ ১৩: ভারতীয় সঙ্গীত জগতে অনেক তারকা রয়েছেন, যাদের শিল্প শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়। তাদের মধ্যে একজন হলেন উস্তাদ উইলায়ত খান, যাকে ‘আফতাব-এ-সিতার’ বলা হয়। তিনি সিতার বাজানোর নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এবং আধুনিক সিতারের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার শিল্প এত গভীর ছিল যে রিয়াজের সময় তার আঙুল কেটে যেত, রক্ত ঝরতো, কিন্তু তিনি থামতেন না।
তিনি বলতেন, “যদি দুই-তিন হাজার সর্গমের মধ্যে আঙুল কেটে যায়, তবে থামলে আবার শুরু করতে হয়।” এই শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তিনি সিতারকে গায়কী অঙ্গ শৈলী দিয়েছেন, যেখানে শ্রোতাদের মনে হয় যেন কেউ গান গাচ্ছে। তার মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ মার্চ।
উস্তাদ উইলায়ত খানের জন্ম একটি সঙ্গীত পরিবারে। তার বাবা উস্তাদ ইনায়াত হুসেন খান এবং দাদা উস্তাদ ইমদাদ খানও বিখ্যাত সিতারবাদক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ছিল। তিনি সিতারের ঐতিহ্যবাহী শৈলীকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং নিজের বিশেষ ‘গায়কী অঙ্গ’ শৈলী তৈরি করেছেন। এই শৈলীতে সিতারে গায়নীয় মিষ্টতা ও অনুভূতি ফুটে উঠতো। তিনি মীন্দ, গমক এবং বলের মতো গায়কী উপাদানগুলোকে সিতারে এমনভাবে মিশিয়েছিলেন যে এটি গান হিসেবে শোনাত।
উস্তাদ আজাদ ভারতবর্ষে প্রথম বিদেশে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উপস্থাপন করেন। তিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে মঞ্চে সিতার বাজিয়েছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রেও অবদান রেখেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’, ‘দি গুরু’ এবং ‘কাদম্বরি’ এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সিতার সঙ্গীত দিয়েছেন। তার পরিবেশনা এত গভীর ও আবেগময় ছিল যে শ্রোতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেত।
তার কঠোর পরিশ্রমের উদাহরণ রিয়াজের সাথে জড়িত। তিনি বলতেন, “রিয়াজের সময় আঙুল এত দ্রুত চলতো যে মাঝে মাঝে কেটে যেত। টিনের দেওয়ালে রক্তের ছিটে পড়তো। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করতো, এই প্যাটার্ন কিভাবে তৈরি হলো, কিন্তু তিনি জানতেন না যে এটি কঠোর পরিশ্রমের ফল।” উস্তাদ বলতেন, “রুকা মানে আবার শুরু করা।” এই উন্মাদনা তাকে মহান করেছে। তার দুই ছেলে সুজাত হুসেন খান এবং হিদায়াত খানও বিখ্যাত সিতারবাদক ছিলেন। উইলায়ত খান শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি দৃঢ় আত্মসম্মান রেখেছিলেন এবং তার শিল্পকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার উত্তরাধিকার আজও সঙ্গীতশিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে।
–
এমটি/ডিএসসি














Leave a Reply