
কলকাতা, মার্চ ১৪: উলুবেরিয়া লোকসভা এলাকা পশ্চিম বঙ্গের হাওড়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। এটি তার সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।
উলুবেরিয়া সংসদীয় এলাকা ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে মোট ৭টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এগুলি হল উলুবেরিয়া পূর্ব, উলুবেরিয়া উত্তর (এসসি), উলুবেরিয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, বাগনান, আমতা এবং উদয়নারায়ণপুর। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এখানে জনসংখ্যা প্রায় ২০.৫২ লাখ, যার মধ্যে ৬৯.৫৫ শতাংশ শহুরে এবং ৩০.৪৫ শতাংশ গ্রামীণ। এদিকে, अनुसूचित জাতির জনসংখ্যা ১৯.৬৩ শতাংশ, এবং अनुसूचित উপজাতি খুব কম (০.১৫ শতাংশ)। ২০১৭ সালের ভোটার তালিকায় এখানে প্রায় ১৫.৪১ লাখ ভোটার ছিল। এখানে প্রধান ভাষা বাংলা, পাশাপাশি ইংরেজি এবং উর্দুও বলা হয়।
হাওড়া জেলা কলকাতার জুড়ো শহর, এবং উলুবেরিয়া তার প্রবেশদ্বার। এই এলাকার ইতিহাস ৫০০ বছর পুরনো, যা প্রাচীন ‘ভূরশুত’ সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত। ১৫৭৮ সালে ভেনিসের পর্যটক সেসারে ফেডেরিচি ‘বটোর’ এর উল্লেখ করেন, যা আজকের বটোর এলাকা। ব্রিটিশ শাসনের সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে গ্রাম প্রতিষ্ঠা করে। উলুবেরিয়া-II ব্লক (৭২.২১ বর্গ কিমি) আধা-শহুরে, যেখানে জুট মিল এবং ছোট শিল্প রয়েছে, এবং ৩০ শতাংশ জনসংখ্যা কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যেমন বানিবন, বাসুদেবপুর এবং জোরগোরি। ২০১১ সালে এখানে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৮.০৫ শতাংশ।
উলুবেরিয়ার একটি বিশেষ পরিচয় হলো এর বাদ্যযন্ত্র ক্লাস্টার, যা ধুলাসিমলা, রঙ্গমহল, মাইকহালী এবং দাদপুর গ্রামে বিস্তৃত। স্বাধীনতার পর শুরু হওয়া এই ক্লাস্টার আজ দেশের সবচেয়ে বড়গুলোর মধ্যে একটি। এখানে সিতার, সরোদ, গিটার, তানপুরা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয়, যাদের মধুর সুর এবং গুণগত মানের কারণে দেশ-বিদেশে চাহিদা রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই কারিগরি এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা বললে, এই এলাকা প্রথমে কংগ্রেসের গড় ছিল, কিন্তু ১৯৫৭ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক এখানে জয়লাভ করে। ১৯৬০-৭০ এর দশকে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএম) শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং হান্নান মোল্লা ১৯৮০ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ক্ষমতা দখল করে এবং সুলতান আহমেদ সিপিএমকে পরাজিত করেন। ২০১৭ সালে সুলতান আহমেদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তার স্ত্রী সাজদা আহমেদ জয়ী হন।
২০১৯ সালে সাজদা আহমেদ ৬,৯৪,৯৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন, যেখানে বিজেপির জয় ব্যানার্জি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সাজদা আহমেদ (টিএমসি) ৭,২৪,৬২২ ভোট পেয়ে বিশাল জয় অর্জন করেন, বিজেপির অরুণোদয় পলচৌধুরী ৫,০৫,৯৪৯ ভোট (৩৬.৩৮ শতাংশ) এবং কংগ্রেসের আজহার মালিক ৭৮,৫৮৯ ভোট পান। টিএমসি এখানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে (২০২৬) এই এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। উলুবেরিয়া পূর্ব, উত্তর এবং দক্ষিণের মতো আসনে টিএমসির ধারাবাহিক জয়ের ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু বিজেপি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন) শুনানির সময় উলুবেরিয়া ব্লকে কিছু বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে, যেখানে টিএমসি রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদও করেছে।














Leave a Reply