
মুম্বাই, জুন ৭: ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর অনেক চরিত্র আজও দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এর মধ্যে ডেনেরিস তারগারিয়েনের নাম শীর্ষে, যাকে ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক অভিনয় করেছেন। তবে সিরিজের শেষ সিজনে ডেনেরিসের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা শুধু দর্শকদেরই নয়, বরং এমিলিয়া ক্লার্ককেও অবাক করে দিয়েছিল। সম্প্রতি, অভিনেত্রী সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে জানান, যখন তিনি তার চরিত্রের সমাপ্তি সম্পর্কে জানলেন, তখন তিনি অত্যন্ত রেগে গিয়েছিলেন।
এমিলিয়া ক্লার্ক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ডেনেরিস তারগারিয়েনের শেষ যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন না। সিরিজে ডেনেরিসকে ‘মাদার অফ ড্রাগনস’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং এই চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এমিলিয়া ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এবং এই চরিত্রটি তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।
সিরিজের শেষ পর্বে ডেনেরিসের মৃত্যু দেখানোর সিদ্ধান্তটি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় ছিল। গল্প অনুসারে, জন স্নো, যাকে কিট হারিংটন অভিনয় করেছেন, রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য ডেনেরিসকে হত্যা করে।
এমিলিয়া বলেন, “এই মোড় আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ডেনেরিসের শেষ শব্দ জন স্নোর জন্য ছিল। তারা একসাথে বিশ্বের উন্নতির কথা বলছিল, কিন্তু পরের মুহূর্তেই জন স্নো তাকে হত্যা করে।”
অভিনেত্রী এই ঘটনার প্রতি তার অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত অদ্ভুত ছিল। ডেনেরিস জন স্নোর জন্য সবকিছু করেছে, এমনকি শহরগুলোও ধ্বংস করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই জন স্নোই তাকে হত্যা করে। তখন আমি এই সিদ্ধান্তে খুবই রেগে গিয়েছিলাম। আমার জন্য চরিত্রের এই শেষ মেনে নেওয়া সহজ ছিল না।”
এমিলিয়া আরও জানান, “যখন আমি প্রথমবার শেষ সিজনের স্ক্রিপ্ট পড়ি, তখন আমি ছুটিতে ছিলাম। ফোন অন করতেই স্ক্রিপ্টটি পেলাম এবং পড়তে বসে গেলাম। পুরো গল্প পড়ার পর আমি এতটাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে কিছু সময়ের জন্য বুঝতেই পারিনি পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। আমি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়ি এবং কয়েক ঘণ্টা একা ঘুরে বেড়াই। সেই সময় আমি আমার চাবি, ফোন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভুলে গিয়েছিলাম, কারণ আমার মন পুরোপুরি গল্পের উপর ছিল।”
এমিলিয়া বলেন, “কোনও প্রকল্প শেষ হলে শিল্পীরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, কিন্তু এইবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। এটি আমার জন্য শুধুমাত্র একটি শো ছিল না, বরং জীবন এবং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল। এটি সেই সিরিজ যা আমাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে।”
এমিলিয়া জানান, “যখন শো শেষ হয়, তখন করোনাভাইরাস মহামারীও শুরু হয়। এই দুটি ঘটনার প্রভাব আমার মানসিক এবং আবেগগত জীবনে পড়ে। আমি বুঝতে অনেক বছর লেগেছে যে এই সিরিজটির আমার জীবনে কত বড় গুরুত্ব ছিল। আজও আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি না যে এই অভিজ্ঞতা কতটা বিশেষ এবং অনন্য ছিল।”













Leave a Reply