Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

ক্যামেরার জগতে প্রবেশ: প্রাকাশ ঝার কাহিনী

ক্যামেরার জগতে প্রবেশ: প্রাকাশ ঝার কাহিনী

মুম্বাই, ফেব্রুয়ারি ২৬: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক প্রাকাশ ঝা আজ ভারতীয় সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত। তবে, খুব কম লোকই জানেন যে প্রাকাশ ঝা কখনও পেইন্টার হতে চেয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ক্যানভাসে আঁকা, যা তাকে দিল্লি থেকে মুম্বাই পর্যন্ত নিয়ে আসে এবং সেখান থেকেই তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়।

প্রাকাশ ঝার জন্ম ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, বিহারের পশ্চিম চাম্পারণ জেলায়। তাঁর শৈশব গ্রামের পরিবেশে কেটেছে। পড়াশোনায় তিনি ছিলেন মেধাবী এবং উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বিএসসি করেন, কিন্তু তাঁর আগ্রহ ছিল শিল্পে। পেইন্টার হওয়ার স্বপ্নে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে মুম্বাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মুম্বাই পৌঁছে তিনি পেইন্টিং শিখতে থাকেন এবং একজন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেতে চান। এই সময় তিনি ‘ধর্মা’ চলচ্চিত্রের শুটিং দেখতে পান। শুটিংয়ের পরিবেশ, ক্যামেরার কার্যকলাপ এবং শিল্পীদের কাজ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন চলচ্চিত্র নির্মাণ শিখবেন। এরপর তিনি পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় ভর্তি হন। যদিও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবে তিনি যা শিখেছিলেন তা তাঁর ভবিষ্যতের কাজে আসে।

সংগ্রামের সময় তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তিনি বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। অর্থের অভাবে অনেক সময় তাঁকে ক্ষুধার্ত থাকতে হয়েছে এবং ফুটপাথে ঘুমাতে হয়েছে, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে তিনি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তাঁর ডকুমেন্টারি ‘ফেস আফটার দ্য স্টর্ম’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় এবং এখান থেকেই তাঁর পরিচিতি শুরু হয়।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে, তিনি ১৯৮৪ সালে ‘হিপ হিপ হুররে’ দিয়ে পরিচালনার শুরু করেন। এরপর ‘দামুল’ তাঁকে বড় পরিচিতি দেয়। এই চলচ্চিত্রটি বন্দুক শ্রমের উপর ভিত্তি করে এবং জাতীয় পুরস্কার পায়। পরবর্তীতে তিনি ‘গঙ্গাজল’, ‘আপহরণ’, ‘রাজনীতি’ এবং ‘সত্যাগ্রহ’ এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোতে রাজনীতি, দুর্নীতি এবং সমাজের বাস্তবতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

নিজি জীবনে, তিনি ১৯৮৫ সালে অভিনেত্রী দীপ্তি নওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের একটি দত্তক কন্যা রয়েছে, যার নাম দিশা। তবে, প্রায় ১৭ বছর পর তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


পিকে/ডিকে পি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *