Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

তারাচাঁদ বড়জাত্যা: অর্থহীন শুরু, পরিশ্রমে গড়ে তুললেন রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের সাম্রাজ্য

তারাচাঁদ বড়জাত্যা: অর্থহীন শুরু, পরিশ্রমে গড়ে তুললেন রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের সাম্রাজ্য

মুম্বাই, মে ৯: হিন্দি সিনেমার কিছু নির্মাতা আছেন, যারা শুধু সিনেমা তৈরি করেননি, বরং ভারতীয় সিনেমার ভাবনাকেও বদলে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তারাচাঁদ বড়জাত্যা। তার সিনেমাগুলোতে প্রেম, সম্পর্ক, পরিবার এবং ভারতীয় সংস্কৃতির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। আজও রাজশ্রী প্রোডাকশন্সের সিনেমাগুলো পরিবার নিয়ে দেখার জন্য জনপ্রিয়, কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন যে এত বড় সিনেমার সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য তারাচাঁদ বড়জাত্যা শুরু করেছিলেন অর্থহীন অবস্থায়।

তিনি শুধুমাত্র শেখার জন্য বিনামূল্যে থিয়েটারে কাজ করেছিলেন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় নিজের স্থান তৈরি করেন।

তারাচাঁদ বড়জাত্যার জন্ম ১০ মে ১৯১৪ সালে রাজস্থানের কুচামন শহরে একটি মারওয়ারি পরিবারে হয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি কলকাতায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তার সামনে ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জীবনে কী করবেন। তখন তারাচাঁদ বড়জাত্যার মন সিনেমার দিকে আকৃষ্ট হতে শুরু করে।

১৯৩৩ সালে, যখন তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে, তখন তিনি ‘মোতি মহল থিয়েটার্স’-এ কাজ শুরু করেন। সবচেয়ে বিশেষ বিষয় হল, তিনি সেখানে কোনো বেতন ছাড়াই কাজ করতেন। তার কাছে অর্থের চেয়ে শেখার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি থিয়েটারে ছোট ছোট কাজ করতেন, মানুষকে মনোযোগ দিয়ে দেখতেন এবং সিনেমার জগতকে বোঝার চেষ্টা করতেন। তার পরিশ্রম এবং নিষ্ঠায় থিয়েটারের মালিক এতটাই প্রভাবিত হন যে পরে তিনি তারাচাঁদ বড়জাত্যাকে আর্থিক সহায়তা করেন।

এই পরিশ্রমের ফলস্বরূপ, ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে তারাচাঁদ বড়জাত্যা ‘রাজশ্রী পিকচার্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এই কোম্পানি ‘রাজশ্রী প্রোডাকশন্স’ নামে পরিচিত হয়। এই ব্যানারে তিনি এমন সিনেমা তৈরি করেন, যা সরাসরি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যায়।

তারাচাঁদ বড়জাত্যা দূরদর্শী ছিলেন। তিনি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমাগুলোকে হিন্দি সিনেমার সাথে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অনেক বড় সিনেমার বিতরণও করেন। ‘শোলে’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘ধর্মবীর’, ‘কুলি’, ‘রুটি কাপড়া এবং মকান’ এবং ‘আনন্দ’ এর মতো সিনেমাগুলোর বিতরণ তার মাধ্যমে হয়েছিল।

১৯৬০ সালের পর তিনি সিনেমা নির্মাণে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেন। তার প্রথম বড় সিনেমা ‘আরতি’ ছিল, যা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দোস্তি’ ইতিহাস সৃষ্টি করে। এই সিনেমাটি সেই সময়ের সবচেয়ে বড় হিট সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি এবং এটি ৬টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পায়। এর পর ‘গীত গায়ে চল’, ‘চিতচোর’, ‘তপস্যা’, ‘দুলহন wahi jo piya man bhaye’, ‘সাবন কো আনে দো’, ‘নদিয়া কে পার’ এবং ‘সারাংশ’ এর মতো অনেক স্মরণীয় সিনেমা মুক্তি পায়।

তারাচাঁদ বড়জাত্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল নতুন শিল্পীদের সুযোগ দেওয়া। তিনি মাধুরী দীক্ষিত, অনুপম খের, অরুণ গোবিল, উদিত নারায়ণ এবং আলকা যাগনিকের মতো শিল্পীদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেন।

২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯২ সালে তারাচাঁদ বড়জাত্যার মৃত্যু হয়, কিন্তু তার চিন্তা এবং পরিশ্রমের গল্প আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

পি কে/ভি সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *