
নয়ডা, মার্চ ২৫: নবরাত্রির পবিত্র উৎসবের সপ্তম দিন (সপ্তমী) মা কালরাত্রিকে উৎসর্গ করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা কালরাত্রির এই রূপ অজ্ঞতা, ভয় এবং নেতিবাচক শক্তির বিনাশক।
এই দিন ভক্তরা বিশেষ পদ্ধতিতে মা কালরাত্রির পূজা করে নিজেদের জীবনের সংকট দূর করার প্রার্থনা করেন। মা কালরাত্রি, দেবী দুর্গার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক রূপ হিসেবে পরিচিত। তাঁর রূপ অত্যন্ত প্রভাবশালী—তিনটি চোখ, ছড়ানো চুল, গলায় মালা এবং চারটি হাত। তিনি গাধায় চড়ে দানবদের বিনাশ করেন। যদিও তাঁর রূপ উগ্র মনে হয়, তবে তিনি সবসময় ভক্তদের জন্য শুভ ফল প্রদান করেন, তাই তাঁকে ‘শুভঙ্করি’ বলা হয়।
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুযায়ী, সপ্তমীর দিনে মা কালরাত্রির পূজা করলে অকাল মৃত্যুর ভয় দূর হয় এবং জীবনে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। এই দিনে ভক্তরা প্রভাতে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করেন এবং বিধিপূর্বক মাতার আরাধনা করেন। পূজার সময় “ওম ঐং হ্রীং ক্লীং চামুণ্ডায়ৈ বিচ্চৈ ওম কালরাত্রি দেব্যৈ নমঃ” মন্ত্রের জপ বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। ভোগ হিসেবে মা কালরাত্রিকে গুড় বা গুড়ের তৈরি মিষ্টি অর্পণ করা হয়, যা অত্যন্ত প্রিয়।
এছাড়াও, সপ্তমীর দিনে লাল বা নীল রঙের পোশাক পরিধান করা শুভ মনে করা হয়, যা শক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক। নবরাত্রির এই দিনের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বিশেষ। এটি ব্যক্তিকে নিজের ভয়, ক্রোধ এবং নেতিবাচক চিন্তার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা দেয়। মা কালরাত্রির আরাধনা ভক্তদের মানসিক শান্তি, সাহস এবং জীবনের বাধা থেকে মুক্তির আশীর্বাদ প্রদান করে। নবরাত্রির সপ্তম দিন কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক নয়, বরং আত্মবল ও ইতিবাচকতারও প্রতীক হয়ে ওঠে।
–
পিকে টি/এএস









Leave a Reply