
ইসলামাবাদ, মার্চ ১১: আমেরিকা এবং ইজরায়েলের ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রভাব এখন পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রধান দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ভবিষ্যতের সমস্যাগুলি মাথায় রেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দেশজুড়ে কঠোর মিতব্যয়ী (অস্টেরিটি) পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে “কঠিন সিদ্ধান্ত” নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়বে। মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিদেশ সফর বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রীরা দুই মাস বেতন নেবেন না এবং সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হবে।
পাকিস্তানে সরকারি গাড়িগুলোর জন্য দুই মাসের জন্য ৫০ শতাংশ কম জ্বালানি বরাদ্দ করা হবে। ৬০ শতাংশ সরকারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সব সরকারি বিভাগ তাদের খরচ ২০ শতাংশ কমাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক তেল বাজার পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, এই সংকটের সময় ধৈর্য ধরুন এবং সরকারের পদক্ষেপে সহযোগিতা করুন।
সরকারের ঘোষিত প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে পাবলিক এবং প্রাইভেট অফিসে কর্মচারীদের সংখ্যা অর্ধেকে কমানোর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত। কর্মচারীদের একটি অংশ বাড়ি থেকে কাজ করবে যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। তবে এই নিয়ম ব্যাংক, হাসপাতাল, কৃষি এবং শিল্প খাতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলোর উপর প্রযোজ্য হবে না।
শক্তি সংকটের কারণে দেশের সব স্কুল এবং কলেজ দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা এই সময়ে তাদের ক্লাসগুলো অনলাইনে পরিচালনা করবে যাতে শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বিঘ্নিত না হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি মজুদ এবং জাতীয় প্রস্তুতির পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকও করেছে। এই বৈঠকে তেলের প্রাপ্যতা, সরবরাহ চেইন এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির মোকাবেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ফেডারেল সরকারের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশও তাদের স্তরে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানের সরকারগুলো শক্তি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, সিন্ধুর মন্ত্রিসভা এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠক করতে যাচ্ছে।
সরকারের বক্তব্য, যদি বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে একই রকম থাকে তবে দেশজুড়ে শক্তি সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।














Leave a Reply