
আলওয়ার, মে ৩: দিল্লির যুব বিচারক অমন কুমার শর্মার আত্মহত্যার ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অমন কুমারের বোনের শ্বশুর রাজেশ শর্মা জানিয়েছেন, আত্মহত্যার আগে অমন তার বাবাকে ফোন করে মাফ চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “এখন আমার কাছে কোনো পথ নেই।”
অমন কুমার শর্মার মৃতদেহ রবিবার রাজস্থানের আলওয়ারে পৌঁছায়, যেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার বাবা অ্যাডভোকেট প্রেম কুমার শর্মা তাকে শেষ অগ্নিদান দেন। এই দুঃখজনক ঘটনার ফলে পুরো পরিবার গভীর শোকে ডুবে গেছে।
রাজেশ শর্মা জানিয়েছেন, ১ মে রাত ৮টার দিকে অমন তার বাবাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পাপা, আমার কাছে আর কোনো পথ নেই… এটি আমার শেষ ফোন, আমাকে মাফ করে দিও।” এই ফোনের পরপরই পরিবার দ্রুত দিল্লির দিকে রওনা দেয়, কিন্তু পরের দিন ২ মে অমন আত্মহত্যা করেন। পরিবার দাবি করছে, এটি শুধুমাত্র আত্মহত্যা নয়, এর পেছনে গুরুতর কারণ রয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।
রাজেশ শর্মা আরও জানান, অমন দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার প্রতি ধারাবাহিকভাবে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং তার বাবাকেও অপমান করা হয়েছিল, যা তিনি সহ্য করতে পারেননি। তিনি বলেন, “জীবন দিতে সহজ নয়, নিশ্চয়ই কোনো বড় কারণ ছিল।” তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
রাজেশ শর্মা জানান, অমন একটি প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। তাদের পরিচয় হয়েছিল প্রশিক্ষণের সময়। এটি একটি আন্তঃকাস্ট বিয়ে ছিল, যা প্রথমে পরিবার মেনে নেয়নি, কিন্তু পরে সন্তানদের সুখের জন্য রাজি হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের খবরও সামনে এসেছে।
তিনি জানান, ঘটনার দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, যার পর অমন বাথরুমে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেই সময় বাড়িতে অমন এর স্ত্রীর বোনও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, অমন এর স্ত্রী তার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এক সন্তান ২ বছর এবং অন্য সন্তান ৫ মাসের। স্ত্রী শেষকৃত্যের সময়ও উপস্থিত ছিলেন না।
বর্তমানে পরিবার এই পুরো ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছে। তাদের দাবি, সত্যি সামনে আসা উচিত এবং যদি কারো দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া উচিত।












Leave a Reply