
নতুন দিল্লি, ফেব্রুয়ারি ১৩: হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে হাস্যকলার কথা বললে রাজেন্দ্র নাথের নাম অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। তার অনন্য কমিক টাইমিং, চটপটে ডায়ালগ ডেলিভারি এবং স্মরণীয় চরিত্রের মাধ্যমে ১৯৬০-৭০ এর দশকে দর্শকদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছিলেন। এটি ছিল সেই সোনালী সময়, যখন হিন্দি সিনেমায় জোনি ওয়াকার এবং মাহমুদ এর মতো অভিজ্ঞ হাস্য অভিনেতারা আগে থেকেই রাজত্ব করছিলেন, কিন্তু রাজেন্দ্র নাথ তার আলাদা শৈলীর কমেডির মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, তারকাদের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব।
১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘যখন প্রেম কাউকে হয়’ ছবিতে দেব আনন্দ এবং আশা পারেখ প্রধান চরিত্রে ছিলেন। এই ছবিতে সহায়ক অভিনেতা হিসেবে রাজেন্দ্র নাথের চরিত্রের নাম ছিল পোপটলাল। দেব আনন্দের সঙ্গে তার অসাধারণ রসায়ন, হাস্যকর সময় এবং পোপটলালের আইকনিক লুক এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে ‘পোপটলাল’ তার দ্বিতীয় নাম হয়ে ওঠে।
এই ছবিটি তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে এবং পরবর্তী অনেক ছবিতে সফলতা এনে দেয়। রাজেন্দ্র নাথ ২০০টিরও বেশি হিন্দি এবং পাঞ্জাবি ছবিতে কাজ করেছেন। তার কমেডি আজও পুরনো ছবিগুলি দেখার সময় দর্শকদের হাসায়, এবং হিন্দি সিনেমার হাস্য ইতিহাসে তার অবদান অমর।
৬০ এবং ৭০ এর দশকে রাজেন্দ্র নাথ হিন্দি সিনেমায় হাস্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি সেই সময়ের সকল বড় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন, কিন্তু এই শিল্পীকে হিন্দি সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত হতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি পৃথ্বী থিয়েটারে কাজ করেছিলেন। যে কোন ছোট বা বড় রোল পেলে, তিনি তা পালন করেছেন। আজকের অভিনেতাদের জন্য তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, কখনো ছোট বা বড় রোল নিয়ে চিন্তা না করে, নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিন। ভালো পারফরম্যান্স হলে অবশ্যই দর্শকদের হাততালি বাজবে। তিনি এমন একজন হাস্য অভিনেতা ছিলেন, যিনি ছবির প্রধান রোলেও প্রভাব ফেলতেন।
রাজেন্দ্র নাথের জন্ম ৮ জুন, ১৯৩১ সালে টীকামগড়, মধ্যপ্রদেশে। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তার হৃদরোগে মৃত্যু হয়।
রাজেন্দ্র নাথের কমেডি আজও পুরনো ছবিগুলি দেখার সময় হাসি নিয়ে আসে। ‘পোপটলাল’ চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল, যা হিন্দি সিনেমার হাস্য ইতিহাসে চিরকাল অমর থাকবে।














Leave a Reply