
নতুন দিল্লি, জুন ৯: আধুনিক জীবনের দ্রুত গতির কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের সরাসরি এবং সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর উপর, বিশেষ করে লিভার এবং কিডনির উপর। লিভার শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলি বের করে (ডিটক্সিফিকেশন) এবং কিডনি রক্তকে শুদ্ধ করে (ফিল্টার)।
এই দুই অঙ্গের কার্যক্রম ব্যাহত হলে শরীর বিভিন্ন গুরুতর রোগের শিকার হতে পারে। তাই মানুষ এখন আবার তাদের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং যোগব্যায়ামের দিকে ফিরে আসছে। অনেক যোগাসনের মধ্যে একটি হলো মণ্ডুকাসন, যা লিভার ও কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়।
মণ্ডুকাসন অত্যন্ত সহজ। এই আসনটি করতে প্রথমে বজ্রাসনে বসতে হয় এবং তারপর দুই হাতের মুঠি এভাবে তৈরি করতে হয় যে আঙুলগুলি ভিতরের দিকে থাকে। এরপর দুই হাতের মুঠি পেটের কাছে রেখে সামনের দিকে ঝুঁকতে হয়। এই আসনটি পেটের উপর হালকা চাপ সৃষ্টি করে। এই অবস্থায় কিছু সময় থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হয়।
মণ্ডুকাসন করার সময় পেটের অংশে যে হালকা চাপ তৈরি হয়, তা পেটের অভ্যন্তরে রক্তের প্রবাহকে উন্নত করে। উন্নত রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে অঙ্গগুলিতে বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়াটি লিভার ও কিডনির জন্য উপকারী, কারণ এটি তাদের কার্যক্রমকে উন্নত করে।
লিভারের জন্য এই আসনটি বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এটি শরীর থেকে ময়লা ও বিষাক্ত উপাদানগুলি পরিষ্কার করে। যখন পেটের উপর হালকা চাপ পড়ে, তখন লিভারের আশেপাশের শিরা ও রক্ত প্রবাহ সক্রিয় হয়। এর ফলে লিভারকে তার কাজ করতে সুবিধা হয়। এছাড়াও, পाचन প্রক্রিয়া উন্নত হয়, কারণ লিভার পाचन রস তৈরিতে সাহায্য করে। যখন প digestion ভালো হয়, তখন লিভারের উপর চাপ কম পড়ে।
কিডনির জন্যও মণ্ডুকাসন উপকারী। কিডনির কাজ হলো রক্তকে ছাঁকনো এবং শরীর থেকে ময়লা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করা। এই যোগাসনে পেট ও কোমরের নিচের অংশে হালকা চাপ পড়লে সেখানে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে কিডনিকে তার কাজ ভালোভাবে করতে সাহায্য হয়। পাশাপাশি শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্যও ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
এই যোগাসনের আরেকটি সুবিধা হলো এটি চাপ কমাতে সাহায্য করে। যখন একজন ব্যক্তি গভীর শ্বাস নিয়ে এই অবস্থায় থাকে, তখন শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়ই শান্ত হয়। চাপ কমলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর উপরও ভালো প্রভাব পড়ে।
–











Leave a Reply