Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

শিবপূজন সহায়: সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মিশন

শিবপূজন সহায়: সাহিত্য ও সাংবাদিকতার মিশন

নতুন দিল্লি, আগস্ট ৯: কিছু মানুষ সাহিত্য লেখেন, কিছু সাহিত্যকে দিশা দেন, আবার কিছু মানুষ সাহিত্যকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। ৯ আগস্ট ১৮৯৩ সালে বিহারের भोजপুর জেলার উনবাঁস গ্রামে জন্মগ্রহণকারী শিবপূজন সহায় ছিলেন তৃতীয় শ্রেণীর সাহিত্য সাধক।

জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল ভোলানাথ। দশম শ্রেণি পাশ করার পর তিনি বানারসের আদালতে নকলনবিশের চাকরি শুরু করেন। এরপর তিনি শিক্ষকতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা, সাহিত্য সম্পাদনা এবং হিন্দি ভাষার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সাহিত্যকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।

শিবপূজন সহায়ের প্রাথমিক জীবন সাধারণ চাকরি এবং শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ছিল। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি বানারসের আদালতে নকলনবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন। তবে, দেশের চলমান অসহযোগ আন্দোলন তাঁর জীবনের দিশা পরিবর্তন করে। তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে সাহিত্যিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সক্রিয় হন।

১৯২১ সালে শিবপূজন সহায় কলকাতায় পৌঁছান এবং ‘মারওয়ারী সংস্কার’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯২৩ সালে ‘মতবালা’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন। এই সময় তাঁর সম্পাদনার জীবন প্রসারিত হতে থাকে।

১৯২৪ সালে তিনি লখনউ চলে যান, যেখানে ‘মাধुरी’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। এই সময় তিনি প্রেমচন্দের সহযোগী হন এবং ‘রঙ্গভূমি’ ও অন্যান্য গল্পের সম্পাদনায় অংশ নেন।

শিবপূজন সহায়ের সাহিত্যিক জীবনের একটি বিশেষ পরিচয় তাঁর সম্পাদনা কর্ম। প্রেমচন্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ লেখকের সাথে কাজ করে তিনি তাঁদের রচনার সম্পাদনায় সহযোগিতা করেন। ১৯৩২ সালে তিনি কাশী থেকে প্রকাশিত সাহিত্যিক পাক্ষিক ‘জাগরণ’ এর সাথে যুক্ত হন।

১৯৩৫ সালে শিবপূজন সহায় লহেরিয়া সারায়, দারভাঙ্গায় চলে যান এবং ‘বালক’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন। ১৯৩৯ সালে রাজেন্দ্র কলেজ, ছাপড়ায় হিন্দির অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন।

শিবপূজন সহায়ের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ১৯৫০ সালে শুরু হয়, যখন তিনি বিহার রাষ্ট্র ভাষা পরিষদের সচিব নিযুক্ত হন। এই পদে তিনি ৫০টিরও বেশি হিন্দি संदर्भ গ্রন্থের সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

শিবপূজন সহায়কে শুধুমাত্র সম্পাদক হিসেবে মনে করা তাঁর সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বকে সীমাবদ্ধ করবে। তিনি একজন কথাকার এবং উপন্যাসিক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর লেখায় গদ্য সাহিত্যের বিভিন্ন শৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়।

শিবপূজন সহায়ের সাহিত্যিক অবদান জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত হয়েছে। ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম ভূষণ সম্মানে ভূষিত করে।

পিএসকে/এবিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *