
সাগর, এপ্রিল ২: শাহপুরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় দেওয়াল পড়ে ৯ শিশুর মৃত্যুর প্রায় ১৯ মাস পর স্থানীয় আদালত তাদের রায় ঘোষণা করেছে। আদালত তিনজনকে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে।
সাগরে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। ৯ম অতিরিক্ত সেশন বিচারক রাজেশ সিংহের আদালত জীর্ণ বাড়ির মালিক মুলু প্যাটেল, শ্রীমদ ভাগবত কাহিনীর আয়োজক সঞ্জু (কেশব প্যাটেল) এবং শিব প্যাটেলকে অপরাধমূলক অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং জরিমানা দিয়েছে।
এই রায়টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য কিছুটা ন্যায়বিচারের অনুভূতি নিয়ে এসেছে এবং এটি দায়িত্বশীলতা ও জনসুরক্ষা সম্পর্কে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে।
এই দুর্ঘটনা ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শাহপুরে ঘটে, যখন হারদৌল বাবা মন্দিরের কাছে ২ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চলমান শ্রীমদ ভাগবত কাহিনীর তৃতীয় দিনে একটি জীর্ণ দুইতলা বাড়ির দেওয়াল হঠাৎ পড়ে যায়। সেই সময় টেন্টের নিচে শিশুরা শিবলিঙ্গ নির্মাণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিল।
এই দুর্ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১১ শিশু মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। গ্রামবাসীদের উদ্ধার প্রচেষ্টার পরও দেব্যাংশ, নিতেশ, আশুতোষ, প্রিন্স, পার্ব, দেবরাজ, বংশ (ময়ঙ্ক), হেমন্ত এবং ধ্রুবসহ ৯ শিশুর মৃত্যু ঘটে, তবে সুমিত প্রজাপতি এবং খুশি পাটওয়া দীর্ঘ চিকিৎসার পর বেঁচে যান।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর দেবেশ বাচকাইনিয়া মামলায় প্রসিকিউশনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
হাদসের পর মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তৎকালীন কালেক্টর দীপক আর্য এবং পুলিশ সুপার অভিষেক তিওয়ারিকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়, যা জনসাধারণের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠা করে।
আদালতের এই রায়টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্বারা স্বাগত জানানো হয়েছে, তবে তারা এখনো ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের নিকট ভবন নিরাপত্তা নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছেন। সামাজিক কর্মীরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নির্দেশিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।














Leave a Reply