
নয়াদিল্লি, এপ্রিল ১৫: বিশ্ববিখ্যাত রেত শিল্পী সুদর্শন পटनায়ক আজ পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই। ওড়িশার সোনালী রেতের উপর তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি শুধু এই শিল্পকে বৈশ্বিক পরিচয়ই দেননি, বরং এটি সামাজিক পরিবর্তনের একটি মাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সুদর্শন পटनায়কের জন্ম ১৫ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে ওড়িশার পুরী জেলায়। তার শৈশব কষ্টের মধ্যে কেটেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তিনি স্কুলের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে, প্রতিভা কখনো থেমে থাকে না; তিনি পুরীর সমুদ্র সৈকতে রেত দিয়ে আকৃতি তৈরি করা শুরু করেন। তার কাছে কাগজ বা রং ছিল না, তাই তিনি বিশাল সমুদ্র সৈকতকেই তার ক্যানভাস বানালেন।
পटनায়ক তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে রেত শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার নামে রয়েছে একাধিক বিশ্ব রেকর্ড, যার মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও অন্তর্ভুক্ত। ২০১৭ সালে তিনি পুরী বিচে ৪৮ ফুট উচ্চতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেতের দুর্গ তৈরি করেন। সম্প্রতি, তিনি পুরীর নীলাদ্রি বিচে ১.৫ টন আপেল ও রেত ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘সান্তা ক্লজ’ এর আকৃতি তৈরি করেছেন, যা ‘ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুক অফ ইন্ডিয়া’ তে স্থান পেয়েছে।
তার আন্তর্জাতিক সম্মানও রয়েছে। ২০১৯ সালে ইতালিতে ‘ইটালিয়ান গোল্ডেন স্যান্ড আর্ট অ্যাওয়ার্ড’ জিতে ইতিহাস গড়েন। তিনি এই পুরস্কারটি পাওয়া প্রথম ভারতীয়। রাশিয়াতেও তিনি সফলতার পতাকা উড়িয়েছেন। ২০২৪ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে তিনি ভগবান জগন্নাথের ১২ ফুট উচ্চতার মূর্তির জন্য ‘গোল্ডেন স্যান্ড মাস্টার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপে সুদর্শন পटनায়ককে ‘গোল্ডেন স্যান্ড মাস্টার্স’ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত করা হয়।
সুদর্শন পटनায়ককে ২০১৪ সালে ভারত সরকার পদ্ম শ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে, যা দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। সম্প্রতি, তিনি প্রখ্যাত ফ্রেড ড্যারিংটন স্যান্ড মাস্টার অ্যাওয়ার্ড (২০২৫) জিততে সক্ষম হন। তার নামের পাশে ২৭টিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড রয়েছে।
পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং বিখ্যাত রেত শিল্পী সুদর্শন পटनায়ক সম্প্রতি ওড়িশার পুরী বিচে একটি বিশাল রেতের মূর্তি তৈরি করে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে কে শ্রদ্ধা জানান।
এই মনোমুগ্ধকর রেতের মূর্তিতে একটি হৃদয়গ্রাহী বার্তা লেখা ছিল, “আশা তাইকে শ্রদ্ধা—আপনার কণ্ঠস্বর সবসময় আমাদের হৃদয়ে জীবিত থাকবে।”














Leave a Reply