Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

ফারূখ শेख: সৃষ্টিশীলতার প্রতীক ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি

ফারূখ শेख: সৃষ্টিশীলতার প্রতীক ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি

মুম্বাই, মার্চ ২৫: পুরনো যুগের সিনেমা অনুসন্ধান করলে অনেক তারকা চোখে পড়ে, যারা অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন ফারূখ শেখ, যিনি দর্শক ও নির্মাতাদের কাছে অত্যন্ত শালীন, মিলনসার এবং মিষ্টি ভাষার মানুষ হিসেবে পরিচিত। আজ তার জন্মদিন।

ফারূখ শেখ ছিলেন সমান্তরাল সিনেমার এক অনন্য তারকা, যিনি ‘গরম হাওয়া’ সিনেমার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন এবং প্রতিটি সিনেমার মাধ্যমে বিশেষ ছাপ রেখে যান। তিনি টেলিভিশনে ‘জীনা ইসীকা নাম হ্যায়’ এর মতো শো হোস্ট করেছেন এবং থিয়েটারেও সক্রিয় ছিলেন।

ফারূখ শেখ ১৯৪৮ সালের ২৫ মার্চ, গুজরাটের সুরত জেলার আমরোলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতা নন, বরং সফল রেডিও ও টেলিভিশন উপস্থাপকও ছিলেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি সেন্ট জেভিয়ার কলেজে ভর্তি হন এবং পরে সিদ্ধার্থ কলেজ অফ ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

বিশেষ কথা হলো, আইন পড়ার শেষ বছরে তিনি এমএস সাথ্যুর ‘গরম হাওয়া’ সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পান, যেখানে তাকে মাত্র ৭৫০ টাকার সম্মানী দেওয়া হয়েছিল। ‘গরম হাওয়া’ ভারতীয় নতুন ঢেউয়ের সিনেমার একটি প্রতিনিধিত্বমূলক চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘গরম হাওয়া’ ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় এবং এটি ভারতীয় সিনেমার একটি যুগান্তকারী চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত। এটি ইসলামের গল্পের ভিত্তিতে বিভাজনের পর আগ্রায় একটি মুসলিম পরিবারের সংগ্রাম, পরিচয়ের সংকট ও সামাজিক বিভাজনকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরে। এই সিনেমায় ফারূখ শেখের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

ফারূখ শেখ ছিলেন একজন শক্তিশালী অভিনেতা এবং অসাধারণ উপস্থাপক। তিনি রেডিওতে কুইজ শো পরিচালনা করতেন এবং মুম্বাই দূরদর্শনের ‘যুব দর্শন’ ও ‘যুব বিশ্ব’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জের খেলোয়াড়’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া মুজফফর আলীর ‘গমন’ সিনেমায় তিনি একটি ট্যাক্সি ড্রাইভারের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নূরী’, ‘চশমে বুদ্দুর’, ‘কথা’, ‘সাথ সাথ’, ‘কিছু না বলা’, ‘রঙ্গ-বিরঙ্গী’, ‘এক পল’, ‘অঞ্জুমন’, ‘ফাসলে’ এবং ‘বাজার’। ‘চশমে বুদ্দুর’ তার সবচেয়ে সফল এবং জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি।

ফারূখ শেখ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সিনেমায় সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টেলিভিশনে। ২০০৮ সালে তিনি দ্বিতীয় দফায় ‘লাহোর’, ‘এটি যুবানী হ্যায় দিওয়ানি’, ‘শাংহাই’ এবং ‘ক্লাব ৬০’ সিনেমায় কাজ শুরু করেন। ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুবাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *