Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

কাশ্মীরি লাল জাকির: বন্টনের বেদনা ও মানবিকতার লেখক

কাশ্মীরি লাল জাকির: বন্টনের বেদনা ও মানবিকতার লেখক

নতুন দিল্লি, এপ্রিল ৭: কাশ্মীরের বেদনা, বন্টনের ক্ষত এবং সমাজের অসমতাগুলোকে তার লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন সাহিত্যিক কাশ্মীরি লাল জাকির। শায়ের থেকে লেখক হয়ে ওঠা জাকির সাহেব তার রচনায় কেবল গল্পই নয়, বরং সেই সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক যন্ত্রণাকেও তুলে ধরেছেন যা আজও পাঠকদের চিন্তা করতে বাধ্য করে।

কাশ্মীরি লাল জাকিরের জন্ম ১৯১৯ সালের ৭ এপ্রিল, পশ্চিম পাঞ্জাবের বেগাবানিয়ান গ্রামে, যা বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত। বন্টনের বিভীষিকা তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা পুঞ্চ ও শ্রীনগরে হয়। পরে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখনীর প্রতি তার নিবেদন ছিল গভীর।

তার লেখায় সমাজ সংস্কারের একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা, শ্রমিকদের শিক্ষা, পরিবেশ এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় নিয়ে প্রায় ৮০টি বই লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে ‘খজুরাহোর এক রাত’, ‘হাতের তালুতে সূর্য’, ‘আঙুলের ছাপ’, ‘উদাস সন্ধ্যার শেষ মুহূর্ত’ এবং ‘জাকিরের তিনটি গল্প’ অন্তর্ভুক্ত। তিনি গল্প ও নাটকের পাশাপাশি শায়েরি দিয়েও শুরু করেছিলেন।

বন্টনের পর কাশ্মীরে সংঘটিত সহিংসতা এবং উপত্যকার দুঃখজনক পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তার অনেক রচনায় এই যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটেছে। ‘যখন কাশ্মীর জ্বলছিল’, ‘রক্ত আবার রক্ত’ এবং ‘একটি হারানো মেয়ে’ এই বেদনার প্রকাশ। তার লেখায় সামাজিক সমস্যা যেমন দहेজ প্রথা, বন্ড শ্রম, মহিলা ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় ঐক্যের উপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

দেশের জন্য লেখার মাধ্যমে অবদান রাখতে জাকির সাহেব প্রায়ই বলতেন, যদি তিনি লেখক না হতেন, তবে দেশের সেবায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেন।

জাকির সাহেব শুধু লেখেননি, বরং সমাজের জন্য কাজও করেছেন। তিনি হরিয়ানা উর্দু একাডেমির সচিব ছিলেন এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি চণ্ডীগড়ের একটি ঝুপড়ি বস্তিকে দত্তক নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার প্রচার চালান। বেকার যুবকদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করেছেন। তিনি ‘শ্রমিক বিদ্যাপীঠ’ এর সভাপতিও ছিলেন, যেখানে তিনি যুবকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করেন।

সাহিত্যিক ও সামাজিক সেবার জন্য তাকে অনেক পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে তিনি গালিব সম্মান, ১৯৯১ সালে জাতীয় নেহরু শিক্ষা সম্মান এবং ২০০৬ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে। হরিয়ানা সরকারও তাকে সম্মানিত করেছে। তার বহু বই হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বিদেশি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

জাকির সাহেবের মৃত্যু ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট ৯৭ বছর বয়সে হয়। তার রচনাগুলি আজও পাঠকদের কাশ্মীরের সত্যতা, বন্টনের বেদনা এবং মানবিক অনুভূতির সাথে যুক্ত করে।

এমটি/এবিএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *