
সিউল, মে ১৪: দুই চীনা নাগরিককে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় যুদ্ধবিমানগুলোর অবৈধ ভিডিও রেকর্ডিং এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ যোগাযোগের তথ্য চুরি করার চেষ্টার জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সুয়োন জেলা আদালত ১৮ বছর বয়সী এক চীনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রকে ১.৫ থেকে ২ বছরের অনির্দিষ্টকালীন কারাদণ্ড এবং ২০ বছর বয়সী অন্য চীনা যুবককে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। উভয়কেই সাধারণ রাজদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিশোর আইন অনুযায়ী, নাবালকদের জন্য অনির্দিষ্টকালীন সাজা প্রযোজ্য।
এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশী নাগরিককে অপরাধমূলক আইন অনুযায়ী সাধারণ রাজদ্রোহের দোষী সাব্যস্ত করা হলো।
যোনহাপ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ক্যামেরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে।
দুই নাগরিককে ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সফরের সময় দেশজুড়ে প্রধান বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানগুলোর শতাধিক বিস্তারিত ছবি তোলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তখন তারা উভয়ই উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, তারা সুয়োন, ওসান, পিয়ংটেক এবং চেংজুর দক্ষিণ কোরিয়ান এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ ইনচিওন, গিম্পো এবং জেজুর তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। গত বছর মার্চে সুয়োন বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানগুলোর অবৈধ রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
আদালত তাদের সকল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বলেছে, তারা এমন রাজদ্রোহমূলক কাজ করেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে। আদালত আরও জানায়, ছবির মাধ্যমে বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানগুলোর মোতায়েন এবং তাদের প্রধান অভিযানের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। তাই কঠোর শাস্তি অপরিহার্য ছিল।
বুসানে একটি ভিন্ন মামলায়ও চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজের অবৈধ রেকর্ডিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সেই মামলায় এখনও রায় দেওয়া হয়নি।














Leave a Reply