Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

বেঙ্গালুরুতে বড় সাইবার প্রতারণা র‍্যাকেটের উদ্ভাবন, আমেরিকার নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছিল

বেঙ্গালুরুতে বড় সাইবার প্রতারণা র‍্যাকেটের উদ্ভাবন, আমেরিকার নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছিল

বেঙ্গালুরু, ২১ মে: বেঙ্গালুরুতে সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কর্নাটক রাজ্যের সাইবার কমান্ড একটি এমন চক্রের উদ্ভাবন করেছে, যা আমেরিকার পরিচিত অ্যাকাউন্টিং কোম্পানি কুইক বুকসের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কল সেন্টার চালাচ্ছিল এবং বিদেশি নাগরিকদের ঠকাচ্ছিল। এই অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের মতে, এই পুরো নেটওয়ার্ক অত্যন্ত চতুরভাবে কাজ করছিল। তারা নিজেদের কুইক বুকস কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমেরিকার নাগরিকদের ফোন করত। ফোনে তারা ট্যাক্স পরামর্শ, লাইসেন্স নবায়ন এবং অ্যাকাউন্টিং সেবার নামে মানুষকে প্রতারণা করত। এরপর তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ফি আদায় করা হতো। আসলে এই সমস্ত সেবা ভুয়া ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র প্রতারণা করা।

এই অভিযানটি কর্নাটক রাজ্য সাইবার কমান্ডের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশন (দক্ষিণ-পূর্ব) এবং বিশেষ সাইবার সেলের টিম বেঙ্গালুরু শহরের চারটি ভিন্ন স্থানে একসাথে অভিযান চালায়। এসব স্থানে ভুয়া কল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছিল।

অভিযানের সময় পুলিশ অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি জব্দ করেছে। এর মধ্যে ৪৪টি এসএসডি, ২টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, ৯টি সিপিইউ এবং কলিংয়ের জন্য ব্যবহৃত স্ক্রিপ্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই স্ক্রিপ্টগুলি আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে কল সেন্টারের কর্মীরা আমেরিকার নাগরিকদের সাথে কথা বলত এবং তাদের বিশ্বাসে নিয়ে আসত।

তদন্তে দেখা গেছে যে কল সেন্টারের কর্মীরা নিজেদের আমেরিকার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত। তারা এমন নাম ও পরিচয় ব্যবহার করত, যাতে অন্য পক্ষের সন্দেহ না হয়। এভাবে ধীরে ধীরে তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করত।

এই মামলায় দুই প্রধান অভিযুক্তের পরিচয় পাওয়া গেছে, প্রশান্ত (দিল্লির বাসিন্দা) এবং আকাশ (উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মিলে সার্কেল স্কয়ার এলএলসি নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর মাধ্যমে বিভিন্ন শেল কোম্পানির ব্যবহার করে আমেরিকার নাগরিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে।

সাইবার কমান্ডের তদন্ত এখন এই বিষয়ে কেন্দ্রিত যে, প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত টাকা কোথায় কোথায় পাঠানো হয়েছে এবং কোন কোন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা নগদে রূপান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানতে চেষ্টা করছে যে, এই চক্রে আরও কতজন জড়িত এবং তাদের নেটওয়ার্ক কত বড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *