
নতুন দিল্লি, মে ১৯: আকাশে প্রায়ই লেন্স বা তশতরির আকৃতির মেঘ দেখা যায়, যা দেখতে অত্যন্ত অদ্ভুত এবং আকর্ষণীয়। এগুলোকে লেন্টিকুলার মেঘ বলা হয়। প্রযুক্তিগত ভাষায় এগুলোকে অ্যাল্টোকিউমুলাস স্ট্যান্ডিং লেন্টিকুলারস বলা হয়।
লেন্টিকুলার মেঘের মসৃণ এবং পরিষ্কার প্রান্তের কারণে অনেকেই এগুলোকে ইউএফও বা অজানা উড়ন্ত বস্তুর মতো মনে করেন। লেন্টিকুলার মেঘকে ‘আকাশে ভাসমান প্লেট’ বলেও উল্লেখ করা হয়। এই মেঘগুলি মূলত উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি হয়, যেখানে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হয়। রকি পর্বতমালার মতো এলাকায় এগুলো বেশ সাধারণ, তবে হাওয়াইয়ের মতো কিছু স্থানে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যখন তীব্র বাতাস কোনো বড় ভূগর্ভস্থ বাধার, যেমন পাহাড়ের সাথে সংঘর্ষ করে, তখন বাতাসকে পাহাড়ের উপরে দিয়ে যেতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাতাস উপরে উঠে, প্রসারিত হয় এবং ঠান্ডা হয়ে যায়। যদি বাতাসে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকে, তবে ঠান্ডা হলে জলবাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের রূপ নেয়। বাতাস যখন উপরে পৌঁছায়, তখন মেঘ তৈরি হয়। এরপর বাতাস নিচে নেমে আসে, উষ্ণ হয় এবং আর্দ্রতা বাষ্পে পরিণত হয়, ফলে মেঘের নিচের অংশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এই কারণেই মেঘটি লেন্সের আকৃতির মতো দেখা যায়।
বিশেষ বিষয় হলো, বাতাস দ্রুত এই মেঘের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, কিন্তু মেঘটি এক জায়গায় স্থির দেখায়। এজন্য এগুলোকে স্ট্যান্ডিং লেন্টিকুলার মেঘও বলা হয়। নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের ওটাগো অঞ্চলে একটি বিশেষ লেন্টিকুলার মেঘ নিয়মিত তৈরি হয়, যা স্থানীয়রা তায়েরি পেট নামে ডাকে।
২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, আমেরিকান স্পেস এজেন্সি নাসার ল্যান্ডসেট ৮ স্যাটেলাইট এই মেঘের চমৎকার ছবি তুলেছিল। এটি মিডলমার্চের কাছে রক অ্যান্ড পিলার রেঞ্জ নামক পাহাড়ি অঞ্চলের উপরে তৈরি হয়। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা তীব্র বাতাস এই চপटा কিন্তু খাড়া ঢালযুক্ত পাহাড়ের সাথে সংঘর্ষ করে।
আমেরিকান আবহাওয়াবিদ জন লোর মতে, বাতাস তরঙ্গ তৈরি করে এবং তরঙ্গের শিখরে মেঘ তৈরি হয়ে প্রায় এক জায়গায় স্থির থাকে। তীব্র বাতাস এটিকে বিশেষ দীর্ঘ লেন্সের মতো আকৃতি দেয়। এই মেঘগুলি পাইলটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করে। এগুলোর চারপাশে তীব্র বাতাস এবং তুষার জমার ঝুঁকি থাকে। কখনও কখনও এগুলো আসন্ন বৃষ্টিরও সংকেত দেয়। এগুলো শুধু সুন্দর দৃশ্য উপস্থাপন করে না, বরং বায়ুমণ্ডলের কার্যকলাপ বোঝার ক্ষেত্রেও সাহায্য করে।













Leave a Reply