
লখনউ, জুন ৩০: উত্তর প্রদেশ সরকার গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের রাজস্ব সম্পর্কিত পরিষেবাগুলি আরও সহজ এবং স্বচ্ছভাবে প্রদান করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে, এখন প্রতিটি জেলায় লেখপালদের গ্রাম সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে রাজস্ব পরিষদের পক্ষ থেকে সকল জেলা প্রশাসকদের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে রোস্টার প্রস্তুত করে ১ জুলাই থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব পরিষদের কমিশনার ও সচিব কঞ্চন ভার্মা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জনসেবাকে গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে, প্রতিটি জেলায় লেখপালদের গ্রাম সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম সচিবালয়ের উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিভাগের পরিষেবাগুলি গ্রামবাসীদের কাছে এক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া।
পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের পূর্বের নির্দেশনার অনুযায়ী, গ্রাম সচিবালয়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে লেখপালদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে রাজস্ব বিভাগের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। গ্রাম সচিবালয়ের মাধ্যমে পঞ্চায়ত সহায়কদের দ্বারা পরিচালিত অনলাইন পরিষেবাগুলিতে রাজস্ব বিভাগের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন আয় শংসাপত্র, জাতি শংসাপত্র, বাসস্থান শংসাপত্র, এবং খতৌনির নকল।
এই পরিষেবাগুলির সময়মতো নিষ্পত্তিতে লেখপালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রাম সচিবালয়ে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি গ্রামবাসীদের জন্য তহসিলের বারবার চক্রাকারে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। রাজস্ব পরিষদ তাদের চিঠিতে স্পষ্ট করেছে যে লেখপাল শুধুমাত্র শংসাপত্র সংক্রান্ত কাজ করেন না, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী লিঙ্ক হিসেবেও কাজ করেন।
তহসিল দিবস, থানা দিবস, স্বামিত্ব পরিকল্পনা, কৃষক সম্মান निधি, এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও লেখপাল পালন করেন। বিভিন্ন বিভাগের দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে লেখপালদের রিপোর্ট এবং যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়।
গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে লেখপালদের বসার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ জনগণকে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। গ্রামবাসীদের অনেক সময় লেখপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য তহসিল বা অন্যান্য স্থানে যেতে হয়, যা সময় এবং অর্থ উভয়ই ক্ষতি করে। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে, এখন প্রতিটি জেলায় রোস্টার তৈরি করে লেখপালদের গ্রাম সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব পরিষদ সকল জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে যে তারা তাদের নিজ নিজ জেলায় লেখপালদের বসার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন এবং তাদের উপস্থিতির রোস্টার নির্ধারণ করুন। এই ব্যবস্থা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে গ্রাম সচিবালয় গ্রামবাসীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ হিসেবে গড়ে উঠবে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হবে এবং রাজস্ব বিভাগের কার্যপ্রণালী আরও জবাবদিহি, স্বচ্ছ এবং কার্যকর হবে।













Leave a Reply