
কুয়েটা, ৩১ মে: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের আওয়ারান জেলার মশকায় এলাকায় কফিউ এবং চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থানীয় মানুষদের খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, স্থানীয় মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী।
বেলুচিস্তান পোস্টের খবর অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর দ্বারা আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মশকায়ের মানুষের চলাচল সম্পূর্ণরূপে সীমিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা কফিউয়ের কারণে অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পৌঁছানো এবং চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
মশকায়ের বাসিন্দারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং মানুষের সমস্যাগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে, কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বা কফিউয়ের কারণ সম্পর্কে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি।
মানবাধিকার সংগঠন বেলুচ ইয়াকেহতি কমিটি এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি “জনজীবনকে সম্পূর্ণরূপে থামিয়ে দেওয়ার” প্রচেষ্টার অংশ। সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা নিজেদের বাড়িতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
কমিটি অভিযোগ করেছে যে ঈদ-এর মতো উপলক্ষে মানুষকে কুরবানির জন্য পশু কেনার অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা স্পষ্ট করে যে নিষেধাজ্ঞাগুলি কেবল দৈনন্দিন জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক এবং ধর্মীয় কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলছে।
সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাগুলিতে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে, আর হাসপাতালগুলোতে রোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্রমাগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বিওয়াইসি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে তারা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর প্রতি দ্রুত নজর দিক এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।












Leave a Reply