
মোগাদিশু, সেপ্টেম্বর ১৫: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) দ্বারা পরিচালিত একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭১ সোমালি অভিবাসী সোমবার নিরাপদে তাদের দেশে ফিরে এসেছে। ফিরতে আসাদের মধ্যে তিনটি নাবালক শিশু রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই অভিবাসীরা উন্নত জীবনের সন্ধানে বিভিন্ন দেশ অতিক্রম করে লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন, কিন্তু সেখানে মানব পাচারকারীদের হাতে শোষণ, নির্যাতন এবং কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এরপর তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সোমালিয়া প্রধান ম্যানুয়েল মার্কেস পেরেরা বলেন, “প্রবেশন কখনোই একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা, সম্মান এবং ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হওয়া উচিত নয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে স্বেচ্ছাসেবী প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে সোমালি অভিবাসীদের দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় পরিচালিত মাইগ্রেন্ট প্রোটেকশন, রিটার্ন অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন ইন সাব-সাহারা আফ্রিকা প্রকল্পের অধীনে এই চার্টার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ফ্লাইটটি প্রথমে উত্তর সোমালিয়ার হারগেইসায় অবতরণ করে, যেখানে ৪২ জন অভিবাসী নেমে পড়েন। এরপর বাকি যাত্রীরা রাজধানী মোগাদিশুতে পৌঁছান, যেখানে কর্মকর্তারা এবং তাদের পরিবার তাদের স্বাগত জানান।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ফিরে আসা অনেক অভিবাসী তাদের পরিবারের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং তাদের খাদ্য, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধার অভাব ছিল। এই ধরনের লোকদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সমর্থন প্রদান করা হয়েছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং সোমালি সরকারের সহযোগিতায় প্রায় ২,০০০ সোমালি অভিবাসীর লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছাসেবী প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে আরও চার্টার ফ্লাইটের পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্স রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও শত শত সোমালি অভিবাসী লিবিয়ায় অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে আটকে আছেন। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা, খাদ্য সংকট, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সুবিধার অভাবে হাজার হাজার মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
–
এএমটি/এবিএম













Leave a Reply