
নতুন দিল্লি, মার্চ ৩০: এনএসইএল (ন্যাশনাল স্পট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড) ঘোটালে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রবর্তন নির্দেশক (ইডি)। মুম্বাইয়ের ইডির আঞ্চলিক অফিস ১৯.১২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে জব্দ করেছে। এই পদক্ষেপটি মুম্বাইয়ের এম.আর.এ. রোড পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইওডব্লিউ) এই মামলার তদন্ত করছে। তদন্তে এনএসইএল, এর পরিচালক, প্রধান কর্মকর্তাদের এবং ২৫ জন ডিফল্টারের বিরুদ্ধে আইপিসির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইডির তদন্তে জানা গেছে, এনএসইএল এবং এর সদস্যরা বাস্তব স্টক ছাড়াই পণ্য বাণিজ্যের অনুমতি দিয়ে ব্যাপক প্রতারণা করেছে। তারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১৩,০০০ বিনিয়োগকারীকে ঠকিয়ে ৫৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, এনএসইএলের তিনটি দোষী সদস্য, এলওআইএল ওভারসিজ ফুডস লিমিটেড, এলওআইএল কন্টিনেন্টাল ফুডস লিমিটেড এবং এলওআইএল হেলথ ফুডস লিমিটেড (যাদের এলওআইএল গ্রুপ বলা হয়) প্ল্যাটফর্মে ধানের কল্পিত ও ভুয়া বিক্রির লেনদেন করে প্রতারণা করেছে। এই কোম্পানিগুলোর ওপর এনএসইএলকে মোট ৭২০.৩০ কোটি টাকার বকেয়া ছিল। ব্যাংক হিসাবের তদন্তে দেখা গেছে, এলওআইএল গ্রুপের কোম্পানিগুলো এনএসইএলের নিষ্পত্তি হিসাব থেকে প্রায় ৫৬৯.০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
আত্মসাৎ করা এই টাকার বড় অংশ লক্ষ্মী এনার্জি অ্যান্ড ফুডস লিমিটেডসহ গ্রুপের অন্যান্য কোম্পানির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা, কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ এবং অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মোট ৩৪টি অস্থায়ী জব্দের আদেশ জারি হয়েছে, যার অধীনে প্রায় ৩৪৫২.১৬ কোটি টাকার বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। ইডি বিশেষ আদালতের (পিএমএলএ) সামনে ১৪৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ দাখিল করেছে, যার ওপর আদালত নজর রেখেছে।
ইডির তদন্ত এখনও চলছে এবং আরও তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোটালে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বাজারের বিশ্বাসকে গভীর আঘাত করেছে।














Leave a Reply