Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যে হিন্দু, হিন্দুত্ব ও সনাতন এর প্রভাব

নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যে হিন্দু, হিন্দুত্ব ও সনাতন এর প্রভাব

নতুন দিল্লি, মে ৫: পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে বিজেপি প্রচণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে মারাত্মক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন বিষয় ও কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তবে ‘হিন্দু’, ‘হিন্দুত্ব’ এবং ‘সনাতন’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যগুলোর প্রভাবও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এই মন্তব্যগুলোর কারণে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ব্যাপকভাবে হিন্দু ভোটারদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের আগে ‘হিন্দু’ এবং ‘সনাতন’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক আলোচনা প্রভাবিত করেছে। অনেক নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় বিজেপি এই মন্তব্যগুলোকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে এবং এগুলোকে তাদের নির্বাচনী কাহিনীর অংশ হিসেবে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, এই মন্তব্যগুলো ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে সহায়ক হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সময় হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যা বিজেপি তাদের নির্বাচনী কাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মক্কা-মদিনা সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো তাদের দলকে পিছিয়ে পড়তে বাধ্য করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করেছে এবং বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা অর্জনে সহায়তা করেছে।

তামিলনাড়ুতে ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্টালিনের ২০২৩ সালে ‘সনাতন ধর্ম’ নিয়ে মন্তব্যটি দেশব্যাপী রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। বিজেপি এই মন্তব্যকে “হিন্দু বিশ্বাসের অপমান” হিসেবে তুলে ধরেছে এবং এটি জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী আলোচনার অংশ করেছে। যদিও রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি, তবে এই বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে পরাজিত হয়েছে।

অসমে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বা সারমার মন্তব্য এবং আসাদুদ্দিন ওয়াইসির প্রতিক্রিয়াগুলো ‘হিন্দু পরিচয়’ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। রাজ্যে বিজেপি ইতিমধ্যে ক্ষমতায় ছিল এবং এই ধরনের বিষয়গুলো তাদের রাজনৈতিক কাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী সারমা উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন, যা তার একটি মুখর হিন্দু নেতার চিত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এই নির্বাচনের বাইরে গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখলে বোঝা যায় যে, বিরোধী দলের মন্তব্য এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার বিষয়গুলো না তোলার ফলস্বরূপ তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে এমনই একটি পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যেখানে বিজেপি ‘সনাতন’ এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় এই বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও বলেছিলেন যে, রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার গঠন করতে হলে ৯০ শতাংশ মুসলমানদের ভোট দিতে হবে। এর প্রভাব ফলাফলে দেখা গেছে। বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, সংগঠন, নেতৃত্ব এবং কাহিনী তিনটি ফ্যাক্টর মিলিয়ে কাজ করেছে, যেখানে ‘সনাতন’ সম্পর্কিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাজস্থানে নির্বাচনের আগে ‘সনাতন’ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চলমান বিতর্কের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে “সনাতন বিরোধিতা” এর অভিযোগ এনেছে এবং এটিকে নির্বাচনী ইস্যু বানিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমাত্র এই একটি বিষয়ের সাথে এটি যুক্ত করেন না, বরং ক্ষমতা বিরোধী তরঙ্গ, স্থানীয় বিষয়, সংগঠনগত শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখের মতো ফ্যাক্টরগুলোকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

ছত্তীসগঢ়েও ‘সনাতন’ বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারের অংশ হয়েছে। বিজেপি এই বিষয়টিকে তাদের প্রচারণায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অবশেষে রাজ্যে জয়লাভ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কিত কাহিনী অন্যান্য স্থানীয় এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোর সাথে মিলিয়ে প্রভাব ফেলেছে।

বিহারে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে রাজদ নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি এবং অন্যান্য নেতাদের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি এবং তার সহযোগীরা এটি রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। রাজ্যে এনডিএ সরকারের গঠনের পিছনে জোট এবং রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের ‘উন্নয়ন কুমার’ এবং ‘সুশাসন বাবু’ এর ইমেজও সহায়ক হয়েছে।

এটি বোঝায় যে, ২২ জানুয়ারি ২০২৪-এ শ্রীराम মন্দিরের প্রাণ-প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠিত হবে এবং তার আগে এবং পরে কংগ্রেসের নেতারা এটিকে বিজেপির স্পনসর করা অনুষ্ঠান বলে উল্লেখ করেছেন, যা একটি বৃহৎ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছে। এর প্রভাব নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, যেখানে অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার আগে উন্নয়ন, শিক্ষা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে মাথায় রেখেই ভোট দেন।

ডিএসসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *