লখনউ, আগস্ট ৪: উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ফুটপাথ ও জনসাধারণের পথের ওপর বাড়তে থাকা দখলের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করা হয়। বিজেপি সদস্য বিজয় বাহাদুর পাঠক নিয়ম-১১০ এর অধীনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজ্যে একটি ব্যাপক অভিযান চালিয়ে দখল উচ্ছেদ এবং অসতর্ক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানান।
এদিকে, শিক্ষার মান নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সরকারের উত্তরদায়িত্বে অসন্তুষ্ট সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। বিজয় বাহাদুর পাঠক বলেন, লখনউ, গাজিয়াবাদ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, আগ্রা, মেরঠ, কানপুরসহ রাজ্যের অধিকাংশ শহরে ফুটপাথগুলোতে অবৈধ পার্কিং, অস্থায়ী ও স্থায়ী দখল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের, প্রবীণ নাগরিকদের, প্রতিবন্ধীদের এবং স্কুলের শিশুদের প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তিনি সরকারের কাছে রাজ্যব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফুটপাথ ও জনসাধারণের পথকে দখলমুক্ত করার, নিয়মিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার এবং অসতর্ক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংসদে প্রশ্নকাল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
সমাজবাদী পার্টির সদস্য আশুতোষ সিনহা রাজ্য সরকারের একটি এআই কোম্পানির সাথে ২৫ হাজার কোটি টাকার এমওইউ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শিল্প উন্নয়ন মন্ত্রীর উত্তর নিয়ে অসন্তুষ্ট সদস্যদের ওপর সভাপতি কুংর মানবেন্দ্র সিং বলেন, এই পুরো বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত।
শূন্যকালীন সময়ে ধ্রুব কুমার ত্রিপাঠী তদর্থ নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। নেতা সংসদ ও উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য জানান, এ বিষয়ে সরকারী আদেশ জারি করা হয়েছে। সভাপতি বিষয়টি সংসদের শিক্ষা সম্পর্কিত কমিটির কাছে পাঠিয়ে আগস্ট মাসের মধ্যে সমাধান বের করার নির্দেশ দেন। এরপর সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা কর্মস্থগন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাজ্যে শিক্ষার মানের অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কিরণ পাল কশ্যপ, ড. মান সিং যাদব, আশুতোষ সিনহা এবং লাল বিহারী যাদব অভিযোগ করেন যে, সরকারের নীতির কারণে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে, শিক্ষকের অভাব হচ্ছে, স্কুল বন্ধ হচ্ছে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বেসিক শিক্ষা রাজ্যমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) সান্দীপ সিং বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, রাজ্যে শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে এবং কোনো পরিষদীয় বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার দরিদ্র ও অবহেলিত শ্রেণীর শিশুদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং শিক্ষকদের অধিকতর শিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করছে। মন্ত্রীর উত্তর নিয়ে অসন্তুষ্ট সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।
এতে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা বলেন, বিরোধী দল সরকারের বক্তব্য শোনার ধৈর্য রাখে না। সভাপতি বিরোধী দলের কাছে উত্তর শোনার পরামর্শ দেন এবং মন্ত্রীকে তার বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় নির্দলীয় সদস্য রাজবাহাদুর সিং চন্দেল এবং ড. আকাশ আগরওয়াল এসসিইআরটি এবং ডায়েটের কর্মরত বক্তাদের ৬০০০ গ্রেড-পে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে সভাপতি বিষয়টি শিক্ষা সম্পর্কিত কমিটির কাছে পাঠিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
নেতা সংসদ কেশব প্রসাদ মৌর্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অতিরিক্ত অনুদানের দাবিগুলোও সংসদে উপস্থাপন করেন। মধ্যাহ্নভোজের পর কার্যসূচির অন্যান্য বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করা হয় এবং আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পাঠানোর পর সংসদের কার্যক্রম বুধবার সকাল ১১ টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।












Leave a Reply