
গজপতি, মার্চ ২৫: ওড়িশার পারলাখেমুন্ডি স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন রঙে সাজানো এই স্টেশনটি এখন উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয়। পারলাখেমুন্ডি স্টেশনটি গজপতি মহারাজা গৌর চন্দ্র গজপতি নারায়ণ দেবের অবদানের জন্য পরিচিত, যিনি স্বাধীনতার আগে ওড়িশায় প্রথম রেলস্টেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
পুনর্নির্মিত পারলাখেমুন্ডি স্টেশন আজও রাজা গজপতি নারায়ণ দেবের অবদানের গল্প বলছে। রেকর্ড অনুযায়ী, এটি ওড়িশার প্রথম ‘লাইট রেল’ ছিল। কেন্দ্র সরকার এই স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার ফলে আধুনিক সুবিধা যুক্ত হয়েছে। স্টেশনে ১২ মিটার দীর্ঘ ফুটওভার ব্রিজ এবং লিফটসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
পারলাখেমুন্ডি স্টেশন ওড়িশার রেলওয়ে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯১৪ সালে এখানে ইউটা সম্মেলনের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এখানে রেলপথে এসেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত এই স্টেশনটি একটি আলাদা সংগ্রহশালা তৈরির জন্য বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
এই স্টেশনের ১২৫ বছরের ইতিহাস ওড়িশার রেলওয়ে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৮৯৯ সালে গজপতি মহারাজা গৌর চন্দ্র গজপতি নারায়ণ দেব নবপাড়া থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পারলাখেমুন্ডি স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্টেশন থেকে একটি দীর্ঘ, অপ্রসারিত গেজ রেললাইন শুরু হয়, যা পারলাখেমুন্ডি লাইট রেলওয়ে (পিএলআর) নামে পরিচিত।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য মহারাজা গৌর চন্দ্র গজপতি নারায়ণ দেবের প্রতিনিধি ১৮৯৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নতুন রেললাইন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছিলেন। এই প্রকল্পটি ১৮৯৯ সালে সম্পন্ন হয় এবং ১৯০০ সালে জনসাধারণের জন্য যাত্রী এবং মাল পরিষেবা শুরু হয়।
যাত্রী প্রভাকমর গুরুর মতে, “আগে স্টেশনের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন এটি বিমানবন্দরের মতো দেখাচ্ছে। এখানে সব সুবিধা রয়েছে।” পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের সদস্য সন্তোষ কুমার মহারাণা বলেন, “এই স্টেশনটি খুব সুন্দরভাবে তৈরি হয়েছে এবং এখানে সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।”
যাত্রী আরুনিমা সাহুর মন্তব্য, “পারলাখেমুন্ডি স্টেশনে সুবিধাগুলি উন্নত হয়েছে। এখানে ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।”













Leave a Reply