Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

কবি প্রদীপ: দেশপ্রেমের প্রতীক ও ‘এই আমার দেশবাসী’ গানের রচয়িতা

মুম্বাই, ফেব্রুয়ারি ৬: কবি প্রদীপের কলমে ছিল এক বিশেষ জাদু। তাঁর রচিত গান ‘এই আমার দেশবাসী’ আজও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এই গানটি ভারত-চীন যুদ্ধের সময় শहीদদের স্মরণে লেখা হয়েছিল। ১৯১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রদেশের বड़নগরে জন্মগ্রহণ করেন কবি প্রদীপ।

লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি মুম্বাইয়ে আসেন। চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করতে তিনি কবি প্রদীপ নাম গ্রহণ করেন। ১৯৩৯ সালে একটি কবি সম্মেলনে তাঁর প্রতিভা দেখে বম্বে টকিজ তাঁকে মাসিক ২০০ টাকায় নিয়োগ করে। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রা।

তিনি ৭১টি সিনেমার জন্য প্রায় ১৭০০ গান রচনা করেছেন। তাঁর অনেক গান দেশপ্রেমে ভরপুর ছিল। ১৯৪০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বন্ধন’ সিনেমার গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে ব্রিটিশ সরকার এটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৩ সালে ‘কিসমত’ সিনেমার গানগুলোর জন্য তাঁকে গোপনে থাকতে হয়েছিল।

‘এই আমার দেশবাসী’ গানটি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে গাওয়া হয়। এই গানের একটি আবেগময় গল্প রয়েছে। যখন কবি প্রদীপ লতা মঙ্গেশকরকে গানটি শোনান, তখন তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেন। লতা গানটি গাওয়ার জন্য রাজি হন, তবে শর্ত থাকে যে রিহার্সালে কবি প্রদীপ উপস্থিত থাকবেন।

১৯৬৩ সালের ২৬ জানুয়ারি, গণতন্ত্র দিবসে লতা মঙ্গেশকর এই গানটি গেয়েছিলেন। তখন স্টেডিয়ামে ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। গান শুরু হতেই পুরো স্টেডিয়াম নীরব হয়ে যায়। গান শেষ হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর চোখে জল এসে যায়।

কবি প্রদীপ ১৯৯৭ সালে দাদাসাহেব ফাল্কে পুরস্কার পান। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন তখন খুবই দুঃখজনক ছিল। স্ত্রী হারানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চার সন্তান তাঁকে একা ছেড়ে চলে যায়। কলকাতার ব্যবসায়ী প্রদীপ কুণ্ডলিয়া তাঁকে আশ্রয় দেন।

১৯৯৮ সালের ১১ ডিসেম্বর ৮৩ বছর বয়সে কবি প্রদীপের মৃত্যু হয়। তাঁর স্মৃতিতে ২০১১ সালে ডাক টিকিট প্রকাশিত হয় এবং ‘জাতীয় কবি প্রদীপ সম্মান’ শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *