
পাটনা, আগস্ট ১৮: বিহারের নবাদাতে এক নারী এবং তার দুই কন্যার মৃত্যুর ঘটনা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে হত্যা এবং আত্মহত্যা উভয় দিক থেকেই কাজ করছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা সাসুরাল পক্ষের বিরুদ্ধে তিনজনের হত্যার অভিযোগ তুলেছেন এবং ঘটনার গভীর তদন্তের দাবি করেছেন।
মৃতদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী নিদা খাতুন এবং তার দুই কন্যা, ৩ বছর বয়সী সারিয়া খাতুন এবং ৪ বছর বয়সী সিতারা খাতুন অন্তর্ভুক্ত। তারা সোমবার সকালে বুন্দেলখণ্ড থানার দর্জি মহল্লার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, নিদা একটি ঘরের ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল, এবং তার দুই কন্যা আলাদা বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় বাড়ি বন্ধ থাকার পর সন্দেহ হলে ভিতরে গিয়ে এই ঘটনা জানতে পারেন।
তবে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পুলিশকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। তদন্তের পর সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, তাদের মৃত্যুর আগে হয়তো তাদের হত্যা করা হয়েছিল এবং পরে মৃতদেহগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ এখনও এই বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। নিদার পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে নিদার স্বামী, শাশুড়ি এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। গয়া জেলার সারডির বাসিন্দা নিদার পরিবার অভিযোগ করেছে যে, শ্বশুরাল পক্ষ দहेজের জন্য নিদাকে নির্যাতন করত এবং এই কারণে তিনজনের হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ জানায় যে, পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং শ্বশুরাল পক্ষের ভূমিকা তদন্তের দাবি করা হয়েছে। পুলিশ নিদার শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নিদার স্বামী মোহাম্মদ সাজিদ গত ১১ মাস ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন। তাকে ঘটনার খবর দেওয়া হয়েছে। বুন্দেলখণ্ড থানার ইনচার্জ ধর্মরাজ কুমার জানিয়েছেন, মামলার সব দিক তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলা হয়েছে।
ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি দলও ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। তিনটি মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে, যার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, নিদা কি তার দুই কন্যাকে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করেছে, নাকি তিনজনের হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রহস্য সমাধান করা সম্ভব হবে। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।













Leave a Reply