
কলকাতা, এপ্রিল ১১: পশ্চিম বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, বিজেপির সিনিয়র নেতা সুবেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে অভিযোগ করেছেন যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কসবা বিধানসভা এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সুবেন্দু অধিকারী তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে 149-কসবা বিধানসভা এলাকায় সেক্টর অফিসার এবং সহকারী হিসেবে চুক্তিতে কাজ করা কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মের বিরুদ্ধে।” তিনি অভিযোগ করেছেন যে এই নিয়োগ জেলা প্রশাসনের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার পূর্ণিমা দে দ্বারা ১০ এপ্রিল ২০২৬-এ জারি করা একটি আদেশের (মেমো নম্বর ৯৩) কথাও উল্লেখ করেছেন।
সুবেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে যেসব কর্মীকে সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অধীনে আইএসজিপিপি সেলে চুক্তিতে কাজ করছেন এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের সাথে যুক্ত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংবেদনশীল নির্বাচনী দায়িত্বে শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া উচিত, যাতে নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
এছাড়া, এই বিষয়ে একটি বিতর্কিত দিক হলো “সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট” এবং “অ্যাসিস্টেন্ট সেক্টর অফিসার” নামের পদবী ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের মানক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুবেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে আগে এই কর্মীদের “সেক্টর অফিসার” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু আপত্তি উঠার পর তাদের পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিজেপির এই নেতা এটি আদর্শ আচরণ বিধির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে এই ধরনের নিয়োগ স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য হুমকি। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছেন যে তারা অবিলম্বে এই আদেশ বাতিল করুক এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।
–
এসএকেএ/পিএম














Leave a Reply