
ইসলামাবাদ, জুলাই ২৫: পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিত-বাল্টিস্তানে (পিওজিবি) আকস্মিক বন্যা এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবর্স্ট ফ্লাডের কারণে অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ চার দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার ফলে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটক বিভিন্ন উপত্যকায় আটকে পড়েছেন। বন্যা আক্রান্ত এলাকায় মানুষ পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ পরিষেবার অভাবে ভুগছেন।
গিলগিত-বাল্টিস্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক আতাউর রহমান কাকার জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গ্লেসিয়ারগুলোর দ্রুত গলানোর কারণ হয়েছে এবং অনেক স্থানে গ্লেসিয়াল লেক আউটবর্স্ট ফ্লাডের ঘটনা ঘটেছে।
নগর জেলার হিস্পার উপত্যকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রোগী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্য এবং ওষুধের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবও বাড়ছে।
অন্যদিকে, দিয়ামির, আস্তোর, ঘিজার এবং অন্যান্য আক্রান্ত জেলার মানুষ বিদ্যুৎ এবং পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যের অভাবের অভিযোগ করেছেন।
আস্তোর উপত্যকার বাসিন্দারা প্রশাসনের উদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, উপত্যকার সড়ক যোগাযোগ গত তিন দিন ধরে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন, ফলে অঞ্চলটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গুরুতর বিষয় হলো, গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির কারণে পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিত-বাল্টিস্তানে আকস্মিক বন্যা ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। গিলগিত-বাল্টিস্তান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, ১৩ জুলাই দিয়ামির জেলায় ছয় স্থানে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঘটনা ঘটেছে।
বন্যায় অনেক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং কারাকোরাম হাইওয়ের অনেক অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, ফসল, কৃষি জমি এবং জনসাধারণ ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
থোরে উপত্যকায় প্রধান সড়ক অনেক স্থানে ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ পরিবহন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মাটি বাড়িতে ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এছাড়াও, খানবাড়ি অঞ্চলে আসা বিধ্বংসী বন্যায় অনেক বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভেসে গেছে। এর সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক পশু সম্পদও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
–
ডিএসসি













Leave a Reply