Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে ৯৩ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে রুপি

প্রথমবারের মতো ডলারের বিপরীতে ৯৩ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে রুপি

মুম্বাই, মার্চ ২০: ভারতীয় রুপি প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯৩ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। রুপি ৯২.৯২ টাকায় খোলার পর পরে ৯৩.০৮ টাকায় নেমে এসেছে, যা এর সর্বনিম্ন স্তর। এই পতন সরকার এবং সাধারণ জনগণের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে। রুপি অবমূল্যায়নের কারণ এবং এর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে, রুপি ৩ পয়সা পতিত হয়েছে, যা ১৮ মার্চে রেকর্ডকৃত ৯২.৬৩ টাকার পূর্ববর্তী নিম্ন স্তরের চেয়ে বেশি।

রুপির পতনের কারণসমূহ

১. অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। যদিও শুক্রবার দাম ১০৭ ডলারে নেমে এসেছে, তবুও তা এখনও উচ্চ। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের আমদানি বিলকে বাড়িয়ে দেয়, যা ডলারের চাহিদা বাড়ায় এবং রুপিকে দুর্বল করে।

২. ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি: কোম্পানিগুলি উচ্চ আমদানি বিলের কারণে আরও বেশি ডলার কিনছে, যা রুপির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

৩. বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রয়: মার্চ মাসে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ৮ বিলিয়নেরও বেশি ডলার তুলে নিয়েছে, যা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে সবচেয়ে বড় অর্থপ্রবাহ।

৪. মার্কিন ডলারের শক্তিশালীকরণ: বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে, বিনিয়োগকারীরা ডলারে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসছে, যা ডলারের শক্তি বাড়াচ্ছে এবং অন্যান্য মুদ্রাকে দুর্বল করছে।

রুপির পতনের প্রভাব আপনার অর্থনীতিতে

রুপির অবমূল্যায়ন কেবল সরকারের উপর নয়, সাধারণ মানুষের উপরও প্রভাব ফেলে। দুর্বল রুপি সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি এবং মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলে।

মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি

ভারত ৭৫% থেকে ৮০% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। দুর্বল রুপি তেল আমদানি ব্যয়বহুল করে তোলে। একটি ₹১ রুপি পতন প্রায় ₹৮,০০০ কোটি বোঝা বাড়ায়, যা পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ায় এবং ফলস্বরূপ মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়। পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম ১০% বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৮% বাড়াতে পারে, যা খাদ্যদ্রব্য এবং পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলে।

ঔষধ এবং শিক্ষার জন্য উচ্চ খরচ

অনেক প্রয়োজনীয় ঔষধ আমদানি করা হয়, এবং দুর্বল রুপি তাদের দাম বাড়ায়। এছাড়াও, বিদেশে পড়াশোনা করা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, এবং ভ্রমণের খরচ বাড়ে, যা আবাসন এবং খাদ্যের জন্য উচ্চ খরচের দিকে নিয়ে যায়।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রভাব

সরকার জনগণের বোঝা কমাতে তেল কোম্পানিগুলিকে ভর্তুকি প্রদান করে। তবে, যখন ডলার শক্তিশালী হয়, সরকারের খরচ বাড়ে, যা রাস্তা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা প্রকল্পের মতো উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে ব্যয় কমাতে পারে, যা জনসেবাকে প্রভাবিত করে।

সরকারের অর্থনীতিতে চাপ

বিদেশী মুদ্রার প্রবাহ এবং প্রবাহের মধ্যে পার্থক্যকে বর্তমান অ্যাকাউন্ট ঘাটতি (CAD) বলা হয়। উচ্চ আমদানি দেশের বাইরে আরও ডলার পাঠায়, CAD বাড়ায়। ভারতের বিদেশী মুদ্রা ব্যয়ের বেশিরভাগই তেল এবং সোনার আমদানিতে হয়।

রুপি পতন রোধে RBI কী করছে?

রিপোর্ট অনুযায়ী, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) মার্চ মাসে রুপি স্থিতিশীল করতে ১৫ বিলিয়নেরও বেশি ডলার বিক্রি করেছে। সাধারণত, আরবিআইয়ের হস্তক্ষেপ আর্থিক বছরের শেষের দিকে (মার্চ) বাড়ে, কিছুটা স্বস্তি প্রদান করে।

রুপি প্রবণতা (মার্চ মাসের শেষের তথ্য)

মার্চ মাসের শেষের স্তর:

  • ২০১৭: ৬৪.৮৫
  • ২০১৮: ৬৫.১১
  • ২০১৯: ৬৯.১৮
  • ২০২০: ৭৫.৩৩
  • ২০২১: ৭৩.১৩
  • ২০২২: ৭৫.৯০
  • ২০২৩: ৮২.১৫
  • ২০২৪: ৮৩.৩৫
  • ২০২৫: ৮৫.৪৫

(নোট: ভারতীয় রুপি প্রতি ডলার)

প্রবণতা: রুপি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হচ্ছে, বিশেষ করে মার্চ ত্রৈমাসিকে চাপের মধ্যে।

এশিয়ান মুদ্রায় প্রভাব (ডলারের বিপরীতে পতন)

ভারতীয় রুপি: -১.৭৯%

দক্ষিণ কোরিয়ার ওন: -৩.৬৯%

ফিলিপাইন পেসো: -৪.০৫%

থাই বাত: -৫.২০%

এই পতন কেবল ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এশিয়া জুড়ে স্পষ্ট।

ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে?

বিশ্লেষকরা মনে করেন যতক্ষণ তেলের দাম উচ্চ থাকবে, ততক্ষণ রুপির উপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে, RBI-এর হস্তক্ষেপই রুপির প্রধান সমর্থন। স্বল্পমেয়াদে, রুপি দুর্বল থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *