Bengal Daily Kiran

Latest Bengal News – Breaking News Today, Live News, World

বাড়ির খাবার খাওয়ার পরেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল, এই কারণগুলোকে উপেক্ষা করবেন না

বাড়ির খাবার খাওয়ার পরেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল, এই কারণগুলোকে উপেক্ষা করবেন না

নতুন দিল্লি, আগস্ট ৩১: কোলেস্টেরল শব্দটি শুনলেই বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রথমেই আসে বাইরের খাবার, বার্গার, পিজ্জা, সমোसा এবং তেলযুক্ত খাবার। অনেকেই মনে করেন, বাড়ির খাবার খেলে তাদের কোলেস্টেরল কখনোই বাড়বে না। কিন্তু এটি সত্য নয়। বাড়ির তৈরি খাবার স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় সঠিক ডায়েট নেওয়ার পরও রিপোর্টে কোলেস্টেরল বেশি আসতে পারে। এর কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ওজন, কম চলাফেরা অথবা কিছু খাবারের অতিরিক্ত পরিমাণ।

কোলেস্টেরল শরীরের জন্য সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়। আমাদের শরীরের কিছু পরিমাণ কোলেস্টেরল প্রয়োজন। এটি শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সহায়তা করে। সমস্যা তখন শুরু হয় যখন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) এর পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন হলে রক্তনালিতে ধীরে ধীরে চর্বির স্তর জমা হতে শুরু করে। এর ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিছু মানুষের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণ তাদের জীবনযাত্রার চেয়ে তাদের জিন হতে পারে। যদি পরিবারের মধ্যে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা উচ্চ কোলেস্টেরল সমস্যা থাকে, তবে এটি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কিছু জিনগত অবস্থায় শরীর এলডিএল কে রক্ত থেকে বের করতে সঠিকভাবে কাজ করে না এবং ব্যক্তির ডায়েট ভালো হলেও কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা জরুরি।

বাড়ির খাবার পুষ্টিকর হলেও, এতে ব্যবহৃত উপাদানের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। ঘি, মাখন, মালাই এবং কিছু পশু-ভিত্তিক খাদ্যপদার্থে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। এগুলোর অতিরিক্ত গ্রহণ এলডিএল বাড়াতে পারে। তাই রান্না করার সময় মোট ফ্যাট এবং এর গুণগত মানের উপর নজর দেওয়া উচিত।

পুরি, পকোড়া, কচুরি বা অন্যান্য ডিপ-ফ্রাইড খাবার যদি কখনও কখনও খাওয়া হয়, তবে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু এগুলোকে প্রতিদিনের খাবারের অংশ করা ওজন এবং হৃদরোগের জন্য বিপজ্জনক। যদি এর সাথে আপনি সারাদিন কম চলাফেরা করেন, তবে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। তাই খাবারটি বাড়ির তৈরি হোক বা বাইরের, এটি কিভাবে তৈরি হয়েছে এবং কত পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে তা দেখা জরুরি।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধুমাত্র তেল কমানো যথেষ্ট নয়। খাবারে ফল, সবজি, साबুত শস্য, ওটস, বার্লি, বিনস এবং ডাল অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। এগুলোতে ফাইবার থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। যদি আপনার প্রতিদিনের থালায় সবজি এবং ফলের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং ময়দা, সাদা রুটি, বিস্কুট বা অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে, তবে ডায়েটটি সুষম নয়।

আপনার খাবার বাড়ির তৈরি হলেও, যদি দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাটান, তবে শুধুমাত্র ডায়েটের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদয়কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা আপনার সক্ষমতার অনুযায়ী অন্যান্য কার্যকলাপ প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *