
রাঁচি, মার্চ ৬: ঝারখণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) রাজ্যসভা সদস্য মহুয়া মাজি বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষতির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি যে কোনো আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করে, সেই দলকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।”
মহুয়া মাজি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “বিহারে যা ঘটছে, তা সম্পূর্ণরূপে জনাদেশের অবমাননা। বিহারের জনগণ নির্বাচনে নীতীশ কুমারের মুখ দেখে ভোট দিয়েছে। নীতীশ কুমার বহুবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এবং রাজ্যের জনগণ তাকে পছন্দ করে। বিজেপির সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে নীতীশ কুমারকে।”
তিনি আরও বলেন, “বিপক্ষের বক্তব্য আলাদা, কিন্তু বিজেপির এই আচরণ রাজনৈতিকভাবে তাদের বিশ্বাসকে কমিয়ে দিচ্ছে।” মহুয়া মাজি উদাহরণস্বরূপ বলেন, “বিজেডি’র সঙ্গে যা হয়েছে, তা সবার সামনে। ওড়িশায় বিজেডিকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেডির অনেক সদস্যকে বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।” মহুয়া মাজি বলেন, “এটি প্রমাণ করে যে, ‘যে থালায় খাওয়া, সেই থালায় ছিদ্র করা।'”
রাজ্যপালদের স্থানান্তর ও পোস্টিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে থেকেই আলোচনায় রয়েছে।” মহুয়া মাজি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যে যখন জগদীপ ধনখড় ছিলেন, তখন তিনি প্রায়ই কেন্দ্র সরকারের পক্ষ নিয়ে কথা বলতেন।”
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শীঘ্রই নির্বাচন হবে, তাই এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।” ঝারখণ্ডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “এখানে নির্বাচনের সময় রাজ্যপালকে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রীকে হয়রানি করার চেষ্টা হয়েছিল।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে মহুয়া মাজি বলেন, “কেন্দ্র সরকার প্রায়ই ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ বানানোর কথা বলে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সংকটের সময় বাস্তব কূটনৈতিক শক্তির পরীক্ষাও হয়।”
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে পড়াশোনা বা কাজ করা ভারতীয়দের পরিবার বর্তমানে ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। সরকারকে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
মহুয়া মাজি বলেন, “বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়ছে এবং বড় যুদ্ধের হুমকি দেখা যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “পারমাণবিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কোনো অঞ্চল নিরাপদ নয়।”
–














Leave a Reply